চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে এলএনজি-র দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে কাতার-সহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভারতে আমদানিকৃত গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পক্ষেত্র, বিশেষ করে সার উৎপাদন যাতে থমকে না যায়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, সার কারখানাগুলিতে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হতে পারে।
সার উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও কৃষি ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে না বলেই আশ্বাস দিচ্ছে সরকার। ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (FAI)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার মজুত সারের পরিমাণ প্রায় ৩৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.৭ মেট্রিক টন হয়েছে। যেহেতু জুন মাস থেকে খরিফ চাষ শুরু হবে, তাই এই মধ্যবর্তী সময়ে সারের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেক সার কারখানা এখন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক মাস কৃষকদের সারের কোনো সংকটে পড়তে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে সংকটের মূল উৎস হলো কাতার। ভারতে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি-র প্রায় ৬০ শতাংশই কাতার থেকে আসে। সম্প্রতি সেখানে ইরানের হামলার পর কাতার উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। এই ঘাটতি মেটাতে ভারত সরকার এখন বিকল্প পথের সন্ধান করছে। পশ্চিম এশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো দেশ থেকে অতিরিক্ত গ্যাস আমদানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আশাবাদী যে, দ্রুত এই বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।