চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কেরালায় বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট বিপুল জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। বৃহস্পতিবার তিরুবনন্তপুরমে কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টির বৈঠকে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে, যেখানে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দলীয় হাইকম্যান্ডকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদর দফতর ইন্দিরা ভবনে এআইসিসি পর্যবেক্ষক মুকুল ওয়াসনিক ও অজয় মাকেন এবং কেরালার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দীপা দাসমুন্সি ৬৩ জন কংগ্রেস বিধায়কের সঙ্গে একে একে বৈঠক করছেন। বিধায়কদের মতামত শুনেই মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁদের পছন্দ নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট জয়ী হওয়ার পর কংগ্রেসের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদ ঘিরে শুরু হয়েছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিযোগিতায় রয়েছেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) তথা সাংসদ কে সি ভেনুগোপাল এবং প্রবীণ নেতা রমেশ চেন্নিথালা। পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিধায়কেরা মুখ্যমন্ত্রী পছন্দ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে প্রাক্তন কেপিসিসি সভাপতি কে সুধাকরণ ইঙ্গিত দিয়েছেন, দলের কাছে নেতৃত্বের বিকল্পের অভাব নেই। তিনি বলেন, আমাদের শুধু সতীশন নন, আরও অনেক ভালো নেতা রয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুধাকরণ মূলত কে সি ভেনুগোপালের পক্ষেই অবস্থান করছেন।
এদিকে রমেশ চেন্নিথালা দিল্লি গিয়ে রাহুল গান্ধি ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। যদিও তা সাংগঠনিক কাজের অংশ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, দলীয় সূত্রের মতে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে নিজের দাবি জোরালো করতেই তিনি হাইকম্যান্ডের দ্বারস্থ হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে জটিলতা বাড়িয়েছে সতীশনের অবস্থান। কংগ্রেস সূত্রে খবর, সতীশন স্পষ্ট জানিয়েছেন— মুখ্যমন্ত্রী পদ না পেলে তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেবেন না। তাঁর মতে, বিধায়ক ও সাংসদদের মতের পাশাপাশি জোটসঙ্গী দলগুলির অবস্থান এবং জনমতও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এদিকে কংগ্রেসের জোটসঙ্গী দলগুলিও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছে। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ-সহ অন্যান্য শরিকদের মতামত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে কেরালায় মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে উত্তেজনা তুঙ্গে। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর হাইকম্যান্ড আগামী রবিবার (১০ মে)-র মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে বলে সূত্রের খবর।