চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: জম্মু-কাশ্মীরে নব্বইয়ের দশকের সেই চেনা আতঙ্ক যেন আবার নতুন রূপে ফিরে আসছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবাহিনীর রিপোর্টে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। উপত্যকার প্রায় ৩০০ জন বাসিন্দা চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং সেখানে বসেই ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন। এই পরিস্থিতি নিরাপত্তাবাহিনীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর হাতে থাকা তালিকা অনুযায়ী, সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়া এই ব্যক্তিদের বড় অংশই পুঞ্চ এবং রাজৌরি এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ উঠেছে, এই কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরাই এখন পাক জঙ্গি সংগঠনগুলোর হয়ে প্রধানত হ্যান্ডলার হিসেবে কাজ করছেন। ডিজিটাল মাধ্যম ও সমাজমাধ্যমকে হাতিয়ার করে তারা উপত্যকার স্থানীয় যুবকদের মগজধোলাই করার চেষ্টা চালাচ্ছে। জঙ্গি সংগঠনে নাম লেখানোর জন্য যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।
সম্প্রতি এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। পুঞ্চের গুরসাই এলাকায় রফিক নাই ওরফে সুলতান নামে এক কুখ্যাত হ্যান্ডলারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রফিক পাকিস্তানে বসেই মাদক এবং অস্ত্র পাচারের সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের ভারতে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রেও সে সরাসরি মদত দিচ্ছে। একইভাবে জামাল লোন নামে আরও এক যুবকের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা, যে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে গিয়ে নাশকতামূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থের জোগান এবং স্থানীয় মদতদাতাদের চিহ্নিত করতে খুব শীঘ্রই উপত্যকা জুড়ে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু হবে। যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ধরণের দেশবিরোধী কাজে সহায়তা করছেন, তাদের কেবল গ্রেফতারই নয়, আইন অনুযায়ী তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে চলা এই প্রক্সি ওয়ার রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন।