ad
ad

Breaking News

Jammu And Kashmir

চরম শীতকে কাজে লাগিয়ে কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি কার্যকলাপ! বাড়ছে সেনার নজরদারি

ডিফেন্স ও গোয়েন্দা সূত্রের মতে, টানা সেনা চাপের কারণে জঙ্গিরা এখন কিশতওয়ার ও ডোডার মধ্য ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সরে গেছে।

jammu-kashmir-terror-alert-winter-ops

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: শীতের চরম তাপমাত্রার মাঝেও জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম থামছে না। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বর্তমানে জম্মু অঞ্চলে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট ৩০-এর বেশি জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। ‘চিল্লাই কালান’-এর কাঁপানো শীতের মধ্যেও তারা দেশবিরোধী কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তবে ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে, পুরো পরিস্থিতি তাদের নজরদারির মধ্যে রয়েছে এবং কোনো পরিকল্পনাই সফল হতে পারবে না। ডিফেন্স ও গোয়েন্দা সূত্রের মতে, টানা সেনা চাপের কারণে জঙ্গিরা এখন কিশতওয়ার ও ডোডার মধ্য ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় সরে গেছে। এই অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষের বসবাস খুবই সীমিত। জঙ্গিদের উদ্দেশ্য একটাই—নজরে না পড়া এবং শীতকালে নিজেদের কার্যক্রম পুনর্গঠন করা।

২১ ডিসেম্বর থেকে চিল্লাই কালান শুরু হওয়ায় সেনা বরফে ঢাকা উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে অপারেশনের পরিধি বৃদ্ধি করেছে। ফরওয়ার্ড উইন্টার বেস এবং অস্থায়ী নজরদারি পোস্ট তৈরি করা হয়েছে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নীচে নামলেও, জঙ্গি ঘাঁটিগুলোর ওপর সেনার চাপ এক মুহূর্তের জন্যও কমানো হয়নি। আগাম প্রস্তুতি নেওয়ায় সেনা সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে পাহাড়ের রিজলাইন, ঘন জঙ্গল ও দুর্গম উপত্যকায় নিয়মিত পেট্রলিং চলছে। সেনার লক্ষ্য স্পষ্ট—জঙ্গিদের কোনো ‘সেফ হেভেন’ তৈরি করতে না দেওয়া, তাদের রসদ সরবরাহ বন্ধ করা এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কৌশলে জঙ্গিরা কার্যত প্রতিকূল ও অনুপযোগী এলাকায় আটকা পড়ে।

অভিযানে সেনার পাশাপাশি কাজ করছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ, বনরক্ষী এবং গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্য একত্র করে দ্রুত টার্গেটেড অপারেশন চালানো হচ্ছে, যাতে সময় নষ্ট না হয়।

সর্বশেষ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নীচের এলাকায় কড়া নজরদারি এবং স্থানীয় সমর্থনের অভাবের কারণে জঙ্গিরা আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গ্রামবাসীদের উপর খাবার ও আশ্রয়ের জন্য চাপ দেওয়া হলেও বিশেষ সফল হয়নি।

এই শীতে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত উইন্টার ওয়ারফেয়ার ইউনিট। তাদের সঙ্গে রয়েছে ড্রোন, থার্মাল ইমেজার এবং গ্রাউন্ড সেন্সর, যা বরফঢাকা এলাকায় সামান্য নড়াচড়াও ধরতে সক্ষম। একবার কোনো এলাকা ‘ক্লিয়ার’ হওয়ার পরও সেখানে নজরদারি অব্যাহত থাকে, যাতে জঙ্গিরা পুনরায় মাথা তুলতে না পারে।