ad
ad

Breaking News

Jagannath History

Jagannath History: প্রভু জগন্নাথের আরেক নাম চকাডলা, কেন এই নাম?

জগদীশ্বর জগন্নাথ আমাদের একান্ত আপন, প্রাণের ঠাকুর। তিনি অসীম, অন্তত, অব্যক্ত।

Jagannath History: The Universal God Beyond Religions

চিত্র: সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: কলিযুগের দেবতা প্রভু জগন্নাথ। কলি যুগে তাই প্রভুর মন্দিরে সবারই সচ্ছন্দ গতি। তাঁর হাত নেই, তবু পলকহীন বিশাল চোখ দিয়েই টানেন সবাইকে। সেজন্যই তাঁর আরেক নাম ‘চকাডলা’। এই বিশাল, অর্ন্তভেদী চোখই যুগ যুগ ধরে টেনে এনেছে ভক্তকুলকে মন্দির প্রাঙ্গনে। জগদীশ্বর জগন্নাথ আমাদের একান্ত আপন, প্রাণের ঠাকুর। তিনি অসীম, অন্তত, অব্যক্ত। হিন্দু ধর্মের মানুষ শ্রী জগন্নাথদেবকে শ্রী বিষ্ণু, নারায়ণের অবতার বলে মনে করে। আবার অন্য ধর্মের মানুষও জগন্নাথ দেবকে নিজেদের আরাধ্য বলে দাবি করে। বলা হয় জগন্নাথ দেব শবরদের দেবতা। জগন্নাথের রথ, স্নানযাত্রায় বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে বলে বৌদ্ধরা জগন্নাথ দেবকে নিজেদের আরাধ্য দেবতা বলে মনে করে। বৈষ্ণবরাও দাবি করে জগন্নাথ দেব তাদের দেবতা। শাক্তমতে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দেবী বিমলার ভৈরব স্বয়ং প্রভু জগন্নাথ দেব। সুতরাং প্রভু জগন্নাথ তাদের আবার শৈবদের দাবি জগন্নাথ তাদেরও দেবতা (Jagannath History)।

আরও পড়ুন: Highway Romance: চলন্ত গাড়িতে প্রেমিক যুগলের গভীর চুম্বন, লোক দেখিয়ে রোমান্স, পরিণতিতে চোকাতে হল মাশুল

আপাতদৃষ্টিতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা- তিন দেব-দেবীর রূপ সনাতন হিন্দু রীতি থেকে আলাদা। সাধারণত দেখা যায়, পাথর, ধাতু বা মাটি দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে বিগ্রহের মূর্তি, কিন্তু জগন্নাথদেব কাঠ নির্মিত। জগন্নাথ দেব তাঁর বিচিত্র রূপ নিয়ে ভারতবর্ষের সব ধর্মের সব সম্প্রদায়ের নিজস্ব দেবতা হয়ে উঠেছেন। তিনি বৈষ্ণবের বিষ্ণু, শৈবের শিব, গাণপত্যের গণপতি, সূর্য উপাসকদের কাছে দিবাকর, শাক্তদের কাছে দক্ষিণা কালিকা। বৌদ্ধরাও তাঁকে বুদ্ধের অবতার বলে মানেন। জৈনরাও মনে করেন তিনি জৈন ধর্মের আদি প্রবর্তক ঋষভনাথ। কথিত তিনি রত্নবেদীতে বিষ্ণু, শয়নকালে শক্তি দক্ষিণা কালিকা ,গমনে রুদ্র, স্নানবেদীতে বিনায়ক ও রথে সূর্য।
খ্রিস্টাব্দ প্রথম ও দ্বিতীয় শতকে রাজা খারবেলের আমলে ওড়িশায় জৈনধর্মের প্রসার ঘটে। জৈনরা মনে করে জগন্নাথ হলেন জৈন তীর্থঙ্কর ঋষভনাথ। বলরাম, সুভদ্রা ও জগন্নাথ হলেন জৈন ত্রিরত্ন। আসলে জগন্নাথ নিজেই একটা ধর্ম। মহাসমন্বয়ের নাম। জগন্নাথ মানুষের একান্তভাবে নিজস্ব ঈশ্বর-গণদেবতা (Jagannath History)।

তাঁর আচার আচরণ রীতিমতো মানুষের মতোই। তিনি ভক্তের অতি বাধ্য। মানুষের মতোই তিনি স্নান করেন। মানুষের মতোই আহার, নিদ্রা, সাজসজ্জা আছে। ৩ দেবদেবীরও জ্বর হয়। মানুষ যেমন জীর্ণ, পুরনো জামাকাপড় ছেড়ে নতুন জামাকাপড় পরে, কালের নিয়মে নিজের শরীর ত্যাগ করে নবকলেবর ত্যাগ করে তেমনই ৩ দেব-দেবীও মানুষের মতো বিকারগস্ত হন। পঞ্চভূতে বিলীন হন। তাঁদের মৃত্তিকা সমাধি হয়। পুনরায় নতুন শরীর লাভ করে। সাধারণত, ১২-১৯ বছর পরপর নবকলেবর হয় (Jagannath History)।

Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/193NB43TzC/

নবকলেবর জগন্নাথ দেবের আরাধনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চান্দ্র মাস ও সৌর মাসের মধ্যে সমতা রাখার জন্য প্রতি ৩১ মতান্তরে ৩২ মাসে একটি করে অতিরিক্ত মাস আসে। অতিরিক্ত মাসকে মলমাস বলা হয়। মলমাস যে বছর আষাঢ় মাসে পড়ে সে বছরই জগন্নাথ দেবের নবকলেবর উৎসব হয়।
ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, কলিঙ্গ রাজ্য যতবার বর্হিশত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে ততবারই প্রভু জগন্নাথের ওপরও আক্রমণ হয়েছে। রাজা যযাতি কেশরীর আমলে জগন্নাথ মন্দিরে আক্রমণ করেন যবনরাজ রক্তবাহু। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে দয়িতাপতি সেবকরা দ্রুত অতি গোপনে সপার্ষদ প্রভু জগন্নাথ দেবকে দুর্গম সোনপুর নামক জায়গায় নিয়ে চলে যান। রাজা যযাতি কেশরী যুদ্ধে জিতে রাজ্য লাভের পর জানতে পারেন পুরীর মন্দির দেবতা শূন্য। তিনি সময় নষ্ট না করে সোনপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নির্বান্ধবপুরী গোপালী গ্রামে বহু প্রাচীন গাছের নীচে আবিষ্কার করেন প্রভু জগন্নাথকে। অবহেলিত অবস্থায় দেবতাকে দেখে মর্মাহত হন রাজা যযাতি কেশরী। ৩ দেব-দেবীর ক্ষয়িষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। কিন্তু এমন মূর্তির তো পুজো হয় না। তাই শাস্ত্রজ্ঞ পণ্ডিত ও মন্দিরের সেবকদের কাছে বিধান চান। রাজার অনুমতি নিয়ে দয়িতাপতিরা নবকলেবরের জন্য উপযুক্ত গাছের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েন। তাঁরা ঠিক করেন যে গাছের নীচে বিগ্রহ মিলেছে সেই গাছের কাঠ কেটে নতুন মূর্তি নির্মাণ হবে। দয়িতাপতিদের নির্দেশে রাজা যযাতি কেশরী শুদ্ধ হয়ে পুজো করে, সংকল্প করে গাছ কাটার নির্দেশ দেন। দিনটা ছিল অক্ষয় তৃতীয়ার দিন। জগন্নাথ দেবের মূর্তি যে কাঠ দিয়ে হয় তাকে বলা হয় মহাদারু। তবে যেমন, তেমন কাঠ দিয়ে নয় সবচেয়ে প্রশস্ত নিম, বেল, ইত্যাদি কাঠ দিয়ে তৈরি হয় (Jagannath History)।