ad
ad

Breaking News

ITC Share Price

ITC Share Price: সিগারেটে বিপুল করের বোঝা! কেন্দ্রের এক ঘোষণাতেই ১০% পড়ল আইটিসি-র দর

আইটিসি-র পাশাপাশি আর এক সিগারেট প্রস্তুতকারক সংস্থা গডফ্রে ফিলিপস ইন্ডিয়া-র (Godfrey Phillips India Ltd.) শেয়ারও এদিন ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ITC Share Price Crash Cigarette Tax

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ভারতের শেয়ার বাজারে নতুন বছরের শুরুতেই বড়সড় ধসের মুখে পড়ল তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা আইটিসি (ITC Ltd.)। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সিগারেটের ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণার পরই বৃহস্পতিবার আইটিসি-র শেয়ারের দর প্রায় ১০ শতাংশ পড়ে যায়। ২০২০ সালের পর এটিই ছিল সংস্থাটির সবথেকে বড় পতন। আইটিসি-র পাশাপাশি আর এক সিগারেট প্রস্তুতকারক সংস্থা গডফ্রে ফিলিপস ইন্ডিয়া-র (Godfrey Phillips India Ltd.) শেয়ারও এদিন ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

বুধবার জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি ১০০০টি সিগারেটের ওপর ২,০৫০ টাকা থেকে ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞ সংস্থা জেফরিস ফিনান্সিয়াল গ্রুপ জানিয়েছে, যদি ন্যাশনাল ক্যালামিটি কন্টিনজেন্ট ডিউটি (NCCD) বা জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা শুল্ক বলবৎ থাকে, তবে তামাকজাত পণ্যের ওপর করের পরিমাণ ৩০ শতাংশেরও বেশি বাড়তে পারে। এই বিপুল করের বোঝা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার ফলে বাজারে আইটিসি এবং গডফ্রে ফিলিপসের শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। এদিন উভয় শেয়ারের লেনদেনের পরিমাণ গত তিন মাসের গড় লেনদেনের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি ছিল। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, করের এই ধাক্কা সামলাতে আইটিসি-কে তাদের সিগারেটের দাম অন্তত ১৫ শতাংশ বা তার বেশি বাড়াতে হতে পারে। আইটিসি-র মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে ক্লাসিক বা গোল্ড ফ্লেকের মতো জনপ্রিয় সিগারেট ব্র্যান্ডগুলি থেকে। ব্রোকারেজ সংস্থা জেফরিস জানিয়েছে, এই কর বৃদ্ধির ফলে সিগারেটের বিক্রি বা ভলিউম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বাজারে চোরাই বা অবৈধ সিগারেটের দাপট বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই ধাক্কা এমন এক সময়ে এল যখন আইটিসি-র বৃহত্তম অংশীদার ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (BAT) তাদের শেয়ার বিক্রি করছে।

তামাকজাত পণ্যের ওপর এই শুল্ক বৃদ্ধি সরকারের জিএসটি (GST) ৪ শতাংশ হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের অতিরিক্ত। সরকারের লক্ষ্য হলো সেপ্টেম্বরে দেওয়া কর ছাড়ের ফলে রাজস্বের যে ক্ষতি হয়েছে, তা এই ‘সিন গুডস’ বা ক্ষতিকারক পণ্য থেকে পুষিয়ে নেওয়া। নুভামা ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক অবনীশ রায়ের মতে, অতীতেও এমন চড়া কর বৃদ্ধির ফলে আইটিসি-র বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ, যেখানে প্রায় ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ তামাকজাত পণ্য সেবন করেন। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তামাকজনিত রোগের কারণে ভারতের অর্থনীতির ওপর প্রতি বছর প্রায় ২.৪ ট্রিলিয়ন রুপির (প্রায় ২৬.৭ বিলিয়ন ডলার) বিশাল আর্থিক বোঝা চাপে। এই জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করতেই তামাকজাত পণ্যকে সাধারণের নাগালের বাইরে রাখতে চায় সরকার। ইতিমধ্য়েই আইপিএল-এর মতো জনপ্রিয় মঞ্চে তামাকের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এর উৎপাদন যন্ত্রপাতির ওপরও নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক মনে করে, সিগারেটের দাম পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িয়ে রাখলে তবেই এর ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।