ad
ad

Breaking News

Kidney Racket

ভাইরাল ভিডিওতে পর্দাফাঁস! কিডনি পাচার কাণ্ডে গ্রফতার ২ চিকিৎসক

তাঁরা হলেন তামিলনাড়ুর তিরুচির স্টার কিমস হাসপাতালের চিকিৎসক রাজরত্নম গোবিন্দস্বামী এবং দিল্লির চিকিৎসক রবীন্দর পাল সিং।

international-kidney-racket-exposed

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: একটি মাত্র মোবাইল ভিডিওই উন্মোচন করে দিল এক ভয়াবহ আন্তর্জাতিক কিডনি পাচারচক্রের। মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুর জেলার এক ঋণগ্রস্ত কৃষকের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামনে আসে এমন একটি সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব, যার শিকড় ছড়িয়ে রয়েছে একাধিক রাজ্য পেরিয়ে ভারত থেকে কম্বোডিয়া পর্যন্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পাচারচক্রে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হত ৫০ থেকে ৮০ লক্ষ টাকা। অথচ যাঁরা দারিদ্র্যের চাপে কিডনি দান করতে বাধ্য হতেন, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হত মাত্র ৫ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চন্দ্রপুর পুলিশ ইতিমধ্যেই দুই চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে। তাঁরা হলেন তামিলনাড়ুর তিরুচির স্টার কিমস হাসপাতালের চিকিৎসক রাজরত্নম গোবিন্দস্বামী এবং দিল্লির চিকিৎসক রবীন্দর পাল সিং।

ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে। চন্দ্রপুরের বাসিন্দা কৃষক রোশন কুড়ে একটি ভিডিও বার্তায় জানান, ঋণের বোঝা সামলাতে তিনি কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিজের কিডনি বিক্রি করেন ৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দ্রুতই স্পষ্ট হয়, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক কিডনি পাচারচক্র।

পুলিশের দাবি, দালালরা দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষদের অল্প টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলত। এরপর তাঁদের বিদেশে পাঠিয়ে বা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালে বেআইনিভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হত। এই পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল এজেন্ট, ভুয়ো চিকিৎসক এবং প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের একাংশ চিকিৎসক।

চন্দ্রপুরের পুলিশ সুপার সুধর্ষণ মুম্মাকা জানান, “এই তদন্ত আর শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। মোবাইল কল ডিটেইলস, ডিজিটাল তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা একটি জটিল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছি, যেখানে এজেন্ট, দাতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে গভীর যোগ রয়েছে।”

পুলিশ আরও জানায়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল লেনদেন খতিয়ে দেখে এমন আরও হাসপাতালের খোঁজ চলছে, যেগুলি এই বেআইনি অস্ত্রোপচারের ‘সেফ হাউস’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। তদন্তে উঠে এসেছে, রোশন কুড়ে প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি তথাকথিত ‘কিডনি ডোনার কমিউনিটি’ পেজের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর কম্বোডিয়া যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, এই সূত্র ধরেই সোলাপুরের এক ভুয়ো চিকিৎসক কৃষ্ণার খোঁজ পাওয়া যায়। অভিযোগ, তিনি কমিশনের বিনিময়ে কম্বোডিয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের কিডনি অপসারণের ব্যবস্থা করেছিলেন। পাশাপাশি, তিরুচির যে হাসপাতালে রাজরত্নম গোবিন্দস্বামী কর্মরত ছিলেন, সেখানে একাধিক বেআইনি কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রমাণও মিলেছে।

চন্দ্রপুর পুলিশের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি অপরাধ নয়—এটি গরিব মানুষের ঋণ, অসহায়ত্ব এবং চিকিৎসার অভাবকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এক নিষ্ঠুর মানব পাচার ব্যবস্থার নগ্ন চিত্র। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই এই চক্রের বিস্তার আরও গভীর ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।