চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ডিসেম্বরের নজিরবিহীন বিমান বিপর্যয় কাটিয়ে অবশেষে ছন্দে ফিরছে দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো। তবে গত মাসের সেই চরম বিশৃঙ্খলার কারণ খতিয়ে দেখতে এখনো অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। ভারতের বেসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ)-র নির্দেশে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত শেষে চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের সেই ঘটনার জেরে ডিজিসিএ ইতিমধেই ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা ভারতীয় বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্ডিগো ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ২,৫০৭টি বিমান বাতিল করেছিল এবং ১,৮৫২টি বিমান দেরিতে ছেড়েছিল। পাইলটদের নতুন ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন’ (FDTL) নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতির অভাবই ছিল এই সংকটের মূল কারণ। এর ফলে প্রায় তিন লাখ যাত্রী অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হন। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিজিসিএ ইন্ডিগোর শীতকালীন পরিষেবার ব্যাপ্তি ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে, যা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই শাস্তির ফলে দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা ও বেঙ্গালুরুর মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো থেকে ইন্ডিগোকে মোট ৭১৭টি স্লট বা উড্ডয়নের সময়সূচী খালি করে দিতে হয়েছে।
ইন্ডিগোর এই শাস্তির ফলে ফাঁকা হওয়া স্লটগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই অন্যান্য এয়ারলাইনকে আবেদন করতে বলেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই পদক্ষেপের ফলে ইন্ডিগোর প্রতিদিনের ফ্লাইটের সংখ্যা ২,১৪৪ থেকে কমে ১,৯৩০-এ দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, চরম গাফিলতির জন্য ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে ২২.২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে এবং সংস্থার সিইও পিটার এলবার্সসহ তিন শীর্ষ আধিকারিককে সতর্ক করেছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে সংস্থাকে ৫০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইন্ডিগোর পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে ডিজিসিএ। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা বৈঠকে বিমান সংস্থাটি দাবি করেছে যে, তাদের হাতে এখন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার মজুত রয়েছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে যখন পূর্ণাঙ্গ পরিষেবা শুরু হবে, তখন আর কর্মীসংকটের কারণে উড্ডয়ন বিঘ্নিত হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে ইন্ডিগো। তবে নেতৃত্বের মানোন্নয়ন, ডিজিটাল অপারেশন এবং কর্মীদের ক্লান্তি-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন না আনা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারিতেই থাকতে হবে এই সংস্থাকে।