চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ইন্ডিগোর বিমান বাতিলের জেরে দেশজুড়ে দেশ জুড়ে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে । এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতির দিকেই আঙুল তুললেন বিরোধী দলনেতা অর্থ্যাৎ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ‘মনোপলি মডেল’ বা একচেটিয়া নীতির ফলেই বিমান পরিষেবা আজ সংকটে। গত দুই দিনে ইন্ডিগোর ৯৫০-র বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া, খাবার ও তথ্যের অভাব—সব মিলিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ চরমে। এই পরিস্থিতির সামাজিক মাধ্যমে রাহুল লিখেছেন, ইন্ডিগো সংকটই প্রমাণ করছে সরকারের মনোপলি নীতি দেশের ঘাড়ে চেপে বসেছে। অন্তহীন দেরি, আচমকা বাতিল আর অসহায়তার বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে (IndiGo Flight Crisis)।
ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় ২,৩০০ বিমান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে সময় মেনে পরিষেবা দেওয়ার রেকর্ডই সংস্থার মূল পরিচয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাদের অন-টাইম পারফরম্যান্স নেমে আসে মাত্র ১৯.৭ শতাংশে—যেখানে দুই দিন আগেও তা ছিল ৩৫ শতাংশ। একদিনে ৫৫০-র বেশি বিমান বাতিল হয়েছে, যা সংস্থার ইতিহাসে নজিরবিহীন। শুধু দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদেই বাতিল হয়েছে ১৯১টি বিমান। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দেরিতে ছেড়েছে কমপক্ষে ২৪টি ইন্ডিগো বিমান, যার মধ্যে দু’টি আন্তর্জাতিক।সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন বিমানবন্দরের বিশৃঙ্খলার ছবি। যাত্রীরা কেউ বলছেন মানসিক নির্যাতন, কেউ আবার দাবি করছেন এটাই তাঁদের জীবনের সবচেয়ে খারাপ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। অনেকের অভিযোগ—ইন্ডিগোর তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যাও মিলছে না।এদিকে ইন্ডিগোর সমস্যার সুযোগে অন্য বিমান সংস্থাগুলির টিকিটের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।বৃহস্পতিবার দুপুরে অ্যাভিয়েশন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে। নভেম্বরের কর্মক্ষমতার আকস্মিক পতন ঘিরেও নজরদারি শুরু হয়েছে। তবে ইন্ডিগোর দাবি—তদন্ত নয়, কেবল কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে (IndiGo Flight Crisis)।
ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া পাইলটস অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিন ধরেই নতুন নিয়োগ বন্ধ, কর্মীসংখ্যা ‘অস্বাভাবিকভাবে কম’, এমনকি পাইলটদের বেতনের একটি অংশ স্থগিতও রেখে দিয়েছে সংস্থা—ফলে অপারেশনাল চাপ ব্যাপক বেড়েছে।সংস্থার পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই–তিন দিন আরও ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থার এই বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রীরা (IndiGo Flight Crisis)।