চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর অচলাবস্থা পঞ্চম দিনেও কাটল না। শনিবারও দেশজুড়ে একাধিক বিমান বাতিল হয়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে চলা এই বিপর্যয়ে বৃহস্পতিবার বাতিল হয়েছিল ৫৫০টির বেশি উড়ান, আর শুক্রবার সেই সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। শনিবার সকালে জারি করা নির্দেশিকায় যাত্রীদের বিমানের স্ট্যাটাস দেখে রওনা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ লাইনের চাপ কমাতে এয়ারপোর্টে বুকিং-টাইম যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ইন্ডিগোর বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের স্বার্থরক্ষায় সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আবেদনকারীরা প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিত নজরদারি চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ–কে বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে। অবিলম্বে শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছে আবেদনকারীরা।
ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, নতুন পাইলট ডিউটি-আওয়ার নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে ইন্ডিগোর ভুল হিসাব ও পরিকল্পনার ঘাটতি থেকেই এই বিভ্রাট। সংস্থার প্রয়োজনীয় পাইলট সংখ্যা ঠিকমতো অনুমান করতে না পারাই পরিস্থিতিকে চরমে ঠেলে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গোটা ঘটনার দায় ইন্ডিগোরই। তাঁর বক্তব্য, একই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পরও স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া, ভিস্তারা—কোনও সংস্থায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত পরিষেবা স্বাভাবিক করাই অগ্রাধিকার, যাত্রীদের সমস্ত সাহায্য দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা। তাঁর বক্তব্য, ইন্ডিগোর বিশাল নেটওয়ার্ক ও ক্রু-অপারেশনের জটিলতার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
দিল্লি বিমানবন্দর দাবি করলেও যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, বাস্তবে অনেক যাত্রী ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন। কলকাতা বিমানবন্দরের এক যাত্রী জানান, তাঁকে ফ্লাইট বাতিলের মেসেজ পাঠানো হলেও বিমানবন্দরে গিয়ে দেখেন ফ্লাইট চালু। আর এক যাত্রীর অভিযোগ, ফ্লাইট লেটের মেসেজ দেওয়া হলেও ডিসপ্লে বোর্ডে তথ্য আপডেট করা হয়নি।শনিবার কলকাতা থেকে ৪১টি ইন্ডিগো ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেরালার তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দর থেকেও তিনটি ডোমেস্টিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে শুক্রবার পর্যন্ত দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ইন্ডিগোর প্রায় ১,০০০ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় একাধিক যাত্রীদের।