ad
ad

Breaking News

Tea

ভারতীয় চা শিল্পের ভবিষ্যৎ কি মেঘাচ্ছন্ন? টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার গলায় আশঙ্কার সুর

শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য বিক্রি এবং ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

indian-tea-industry-crisis

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাফল্য সত্ত্বেও দাম, রফতানি কাঠামো এবং সস্তা আমদানির কারণে ভারতীয় চা শিল্প বর্তমানে প্রবল চাপে রয়েছে। কাঠামোগত অসামঞ্জস্য, ভুয়ো ব্র্যান্ডিং এবং লজিস্টিক সমস্যার সমষ্টিতে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (TAI)।

বিশ্ব বাজারে ভারত পিছিয়ে

TAI-এর দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতি সন্দীপ সিংহানিয়া জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট ১,৯৫৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা রফতানি হয়েছে, যার মধ্যে ভারত থেকে মাত্র ২৫৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম। অর্থাৎ মোট রফতানির মাত্র ১৩ শতাংশ ভারত থেকে। যদিও গত বছরের তুলনায় এটি প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি, তবু শিল্পে কাঠামোগত ফাঁক এখনও বড়। বিশ্বের মোট চা উৎপাদনের ১৯ শতাংশ ভারতের দখলে থাকলেও রফতানির অংশ মাত্র ১৩ শতাংশ। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য বিক্রি এবং ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়াতে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

উৎপাদনে ধারাবাহিক বৃদ্ধি

গত দেড় দশকে ভারতের চা উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১০ সালে যেখানে চা উৎপাদন ছিল ৯৬৬ মিলিয়ন কিলোগ্রাম, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩০৪ মিলিয়ন কিলোগ্রামে, যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১,২৯০.৫০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৭.৬৩ মিলিয়ন কিলোগ্রাম বেশি। চলতি প্রবণতা বজায় থাকলে ২০২৬ সালে উৎপাদন ১,৩৫০ মিলিয়ন কিলোগ্রাম ছাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দামের পতনে বড় ধাক্কা

উৎপাদন বেড়ে গেলেও চায়ের দাম ২০২৫ সালে হ্রাস পেয়েছে। অল ইন্ডিয়া গড় চা মূল্য প্রতি কেজিতে ১২.৩১ টাকা কমে ১৮৬.৯৯ টাকায় নেমে এসেছে। উত্তর ভারতের পরিস্থিতি আরও গুরুতর, যেখানে গড় দাম প্রতি কেজিতে ২২১.৫৭ টাকা থেকে কমে ২০৪.৮৪ টাকায় নেমেছে, অর্থাৎ প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে।

সস্তা আমদানি ও ভুয়ো ব্র্যান্ডিংয়ের প্রভাব

দেশীয় বাজারে ডিউটি ফ্রি ও নিম্নমানের চা আমদানি নিয়ে শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নেপাল থেকে আসা চাকে ‘দার্জিলিং চা’ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দার্জিলিং চায়ের ব্র্যান্ড ভ্যালু ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি কেনিয়া থেকে আমদানি করা চা অনেক সময় ‘ইন্ডিয়ান অরিজিন’ লেবেল দিয়ে পুনঃরফতানি করা হচ্ছে। ডিউটি ফ্রি আমদানি একটি অংশ দেশের বাজারে ঢুকে বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

দেশে মাথাপিছু চা পান কম

ভারতে চায়ের প্রতি ভোক্তা সমাদর থাকলেও মাথাপিছু চা পান এখনও কম—বার্ষিক গড় মাত্র ৮৪০ গ্রাম। তুলনামূলকভাবে যুক্তরাজ্যে ১.৬১ কেজি, পাকিস্তানে ১.০১ কেজি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাথাপিছু চা পান মাত্র ১০০ গ্রাম বৃদ্ধি পেলে বছরে অতিরিক্ত ১৩১ মিলিয়ন কিলোগ্রাম চা খরচ হতে পারে, যা উৎপাদন ও চাহিদার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

চা শিল্প সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছে: 

অ্যাডভান্স অথরাইজেশন ও SEZ ব্যবস্থায় ডিউটি-ফ্রি চা আমদানি বন্ধ করা।

কাস্টমস অ্যাক্ট সেকশন ৭৪ অনুযায়ী পূর্ণ শুল্ক দিয়ে আমদানি এবং ডিউটি ড্রব্যাক চালু করা।

রফতানি ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা। 

টি বোর্ডের অবস্থান

টি বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যান সি মুরুগান জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই চা শিল্পের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SoP) চূড়ান্ত করা হবে। তবে চা নিলাম ব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দার্জিলিং বা অসম নয়, এক ছাতার নীচে ‘ইন্ডিয়ান টি’ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিংয়ের পরিকল্পনা চলছে।