চিত্র : সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বন্যপ্রাণীর প্রাণহানি রুখতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। সম্প্রতি রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় সাতটি হাতির মৃত্যুর ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেললাইনের আশপাশে থাকা বন্যপ্রাণীদের আগেভাগেই চিহ্নিত করতে এবার অত্যাধুনিক হাই-পাওয়ারড ক্যামেরা সিস্টেম চালু করা হচ্ছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ক্যামেরা বসানো হবে ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে। এর সাহায্যে অন্তত ৫০০ মিটার দূর থেকেই রেললাইনের পাশে থাকা প্রাণীদের চলাফেরা ধরা পড়বে।
কোনও বন্যপ্রাণী লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা আগে থেকেই দেখতে পাবেন লোকো পাইলটরা। ফলে সময়মতো গতি কমিয়ে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। রেল আধিকারিকদের মতে, জঙ্গলঘেরা এলাকা এবং হাতি ও বাঘের চলাচলের করিডরে এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর হবে। কারণ, রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি অসমে রেললাইন পার করার সময়ে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় সাতটি হাতির মৃত্যু হয়। এর আগেও অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার একাধিক জায়গায় ট্রেন দুর্ঘটনায় বহু বন্যপ্রাণীর প্রাণ গেছে। রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। ২০১৭ সালে রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পীযূষ গোয়েল প্রথম এই ক্যামেরা ব্যবস্থার কথা তুলেছিলেন। বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। এদিকে বন্যপ্রাণী রক্ষায় রেলমন্ত্রক অন্য দিকেও জোর দিয়েছে। হাতি ও বাঘের করিডর হিসেবে চিহ্নিত রেললাইনের পাশে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর ফলে হাতি যদি রেললাইন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরেও থাকে, তবু তাদের চলাচলের কম্পন ধরা পড়বে। সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পৌঁছে যাবে কন্ট্রোল রুমে, সেখান থেকেই লোকো পাইলটদের সতর্ক করে ট্রেনের গতি কমাতে বলা হবে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে আগামী দিনে ট্রেন দুর্ঘটনায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যু অনেকটাই কমবে।