চিত্র- AI
Bangla Jago Desk: অনলাইন রিয়েল-মানি গেমিং বা টাকার বিনিময়ে গেম খেলার প্ল্যাটফর্মগুলোর শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে গেল। বুধবার কেন্দ্র সরকার ‘অনলাইন গেমিং আইন ২০২৫’ (Online Gaming Act, 2025) কার্যকর করার জন্য নিয়মাবলী প্রকাশ করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ১ মে থেকে দেশে যে কোনও ধরণের আর্থিক বাজি বা মুদ্রার লেনদেন যুক্ত গেমিং প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নতুন এই নিয়মে টাকার বিনিময়ে খেলা এবং বিনোদনের জন্য খেলা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি স্পষ্ট বিভাজন রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণান একটি সাংবাদিক সম্মেলনে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে, অনলাইন মানি গেমিং কোনোভাবেই এই আইনের অধীনে স্বীকৃতি বা নিবন্ধকরণ (Registration) পাবে না।
সরকারের এই সিদ্ধান্তটি গত কয়েক মাস ধরে চলা গেমিং শিল্প মহলের জল্পনার অবসান ঘটাল। যদিও প্রায় ২,৫০০ এরও বেশি স্টেকহোল্ডার এবং বিশেষজ্ঞ রিয়েল-মানি গেমিংয়ের জন্য কিছুটা শিথিল কাঠামোর আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু চূড়ান্ত নিয়মে সরকার কঠোর অবস্থানই বজায় রেখেছে। ক্যাজুয়াল বা সোশ্যাল গেমের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কোনো বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই কাজ করতে পারবে, যদি না বিশেষ কোনো কারণে কর্তৃপক্ষ তাদের নির্দেশ দেয়। তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ই-স্পোর্টসের মতো বিভাগগুলোর ওপর সরকারের বিশেষ নজরদারি থাকতে পারে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে গেমিং কোম্পানিগুলোকে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা সার্ভারে ট্র্যাফিক ডেটা এবং মেটাডেটা সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও সরকারের হাতে রাখা হয়েছে।
এই নতুন আইন পরিচালনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনে ৬ সদস্যের একটি ‘অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ (OGAI) গঠন করা হয়েছে। এই সংস্থায় স্বরাষ্ট্র, অর্থ, তথ্য ও সম্প্রচার, ক্রীড়া এবং আইন মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা থাকবেন। গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দেখা হবে যে, সেখানে প্রবেশের জন্য কোনও ফি বা আমানত নেওয়া হচ্ছে কি না এবং ব্যবহারকারীরা জেতার পর আর্থিক বা সমতুল্য লাভের আশা করছেন কি না। যদি কোনো গেমে অর্থের লেনদেন থাকে, তবে তা অবৈধ বলে গণ্য হবে। অন্যদিকে, ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বয়স যাচাইকরণ, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এবং সময়সীমা নির্ধারণের মতো বিষয়গুলোকেও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ই-স্পোর্টস এবং নিবন্ধিত গেমগুলোর সার্টিফিকেটের মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে যাতে নির্মাতারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুযোগ পান।