চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দেশে ইবোলার কোনও সংক্রমণ ধরা না পড়লেও আগাম সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত ভারতে ইবোলার কোনও রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগের পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে জনগণকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে সতর্কতা গ্রহণ করলে সম্ভাব্য ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনও ব্যক্তি ইবোলা-আক্রান্ত কোনও দেশে ভ্রমণ করে থাকেন বা সেই দেশের ওপর দিয়ে ট্রানজিট করে থাকেন এবং তার মধ্যে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া অথবা কারণহীন রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে নিজেকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে হবে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে।
মন্ত্রক জোর দিয়ে জানিয়েছে, সময়মতো রোগ সম্পর্কে রিপোর্ট করা এবং দ্রুত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা সহজ হয় না, রোগের সম্ভাব্য বিস্তারও রোধ করা যায়। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য যেকোনও তথ্য, পরামর্শ বা জরুরি সহায়তার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা স্বাস্থ্য হেল্পলাইন নম্বর ১০৭৫-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, আফ্রিকায় চিকিৎসা সহায়তার দ্বিতীয় চালান পাঠানো হয়েছে। মোট ৪৩ টনের এই সহায়তা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সুরক্ষা সরঞ্জাম, পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পুষ্টির সম্পূরক। এই সামগ্রী আফ্রিকা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
জয়শঙ্কর জানান, এই চিকিৎসা সহায়তা আফ্রিকান দেশগুলির জনস্বাস্থ্য প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি ইবোলার মতো প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াবে। আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলির স্বাস্থ্য সুরক্ষা জোরদার করতে ভারত যে ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে চলেছে, এই ৪৩ টনের চালান সেই প্রচেষ্টারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দেশের ভিতরে সতর্কতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা— দুই দিকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে ভারত।