চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়া এবং তার পর একের পর এক শুল্কবাণ—দুইয়ে মিলিয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের বাণিজ্য। মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর চাপ বাড়তেই বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি। সেই প্রেক্ষিতেই ভারতের বাণিজ্যের পরিধি আরও বড় করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণতন্ত্র দিবসের পরেই ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামী ২৫ থেকে ২৭ জানুয়ারি ভারতে আসছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্তোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন।
২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তাঁরা। তার পরদিন অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল। কেন্দ্র সরকার সূত্রে খবর, দীর্ঘদিনের আলোচনায় ইতিমধ্যেই বড় অগ্রগতি হয়েছে। মোট ২৪টি অধ্যায়ের মধ্যে ২০টি অধ্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে সহমত হয়েছে। বাকি অধ্যায়গুলি নিয়ে আগামী কয়েকদিন টানা আলোচনা চলবে। সম্প্রতি ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে গিয়ে এই বিষয়েই বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। যদিও এখনও চুক্তির সব শর্ত চূড়ান্ত না হওয়ায় সরকারিভাবে ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না, তবে কেন্দ্রের আশাবাদ—সাধারণতন্ত্র দিবসের পরেই চুক্তি চূড়ান্ত হবে। সূত্রের দাবি, এই সমঝোতায় কৃষিক্ষেত্র রাখা হচ্ছে না। তবে উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে চুক্তির আওতায় আনা হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং তার পর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের বাজারে যে ক্ষতি হয়েছে, ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়লে তার অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৭ সাল থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। সব মিলিয়ে, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের মাঝেই ইউরোপকে ভরসা করে ভারতের বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মঞ্চে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।