চিত্র: প্রতীকী
Bangla Jago Desk: অশান্তির আবহ থেকে বেরিয়ে এসে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চাইছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে যাতে শান্তির পরিস্থিতি জারি থাকে, তার জন্য পদক্ষেপ করেছে ভারত ও চিন। গত ২৫ অক্টোবর দুই দেশের সেনাকর্তারা এই নিয়ে বৈঠক সেরেছে বলে জানা গিয়েছে। সেনা পর্যায়ের সেই বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বেজিং-এর তরফে। লাদাখ সীমান্তের সমস্যা মেটাতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (India-China)।
এসসিও অর্থাৎ সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ বৈঠক হয়েছে কিছুদিন আগেই। সেই সম্মেলনের পর ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের। ইতিমধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে নয়াদিল্লির আরও কাছে আসছে বেজিং। ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে।
এসসিও সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বৈঠকের পর এবার সীমান্তের সমস্যা মেটাতে উদ্যোগ নিয়েছে দু’দেশের সেনাবাহিনী। অবশ্য চিনের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের পক্ষ থেকেই এই বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর নির্ধারিত স্থানে আলোচনায় বসেন ভারত ও চিনের সেনা কর্তারা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, লাদাখ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে দুই দেশ (India-China)।
প্রসঙ্গত, গত ২০২০-র এপ্রিল মাস থেকে চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, পূর্ব লাদাখের একাধিক জায়গায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে অনুপ্রবেশ করা হয়েছে। ওই বছরের জুন মাসেও ডোকলামে এরকমই অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারত ও চিনের সেনাদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। সেই লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২০ জন জওয়ানের। অপরদিকে এই সংঘর্ষে চিনের বহু সেনারও মৃত্যু হয়।
এরপর থেকেই এলএসি অর্থাৎ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গুরুতর পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় সেনা পর্যায়ের বৈঠক করে ভারত ও চিন। গত বছর ২০২৪-এর ২১ অক্টোবর কিছুটা ঐক্যমতে পৌঁছয় দু’দেশের সেনাবাহিনী। চলতি বছরের জুলাই মাসেও পূর্ব লাদাখে এলএসি-র পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিল ভারত ও চিন। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, এই বছরেই আরও একবার বৈঠকে বসবে দু’দেশের সেনা। সেই অনুযায়ী এই বৈঠক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (India-China)।