চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: বাংলা-সহ দেশের ১২টি রাজ্যে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই জাতিভিত্তিক জনগণনার কাজ শুরু হবে। ২০২৭ সালের আদমশুমারের জন্য বাজেট ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, জনগণনা পরিচালনার জন্য মোট ১১,৭১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তবে এই ঘোষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর)-এর জন্য কোনও বাজেট বরাদ্দ করা হয়নি। অর্থাৎ, আপাতত এনপিআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর আগে জল্পনা ছিল যে জনগণনার সঙ্গেই এনপিআরের কাজ শুরু হতে পারে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে সেই সম্ভাবনা কার্যত নাকচ হয়ে গেল।
মন্ত্রী জানান, জনগণনা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে হবে হাউসিং এনলিস্টিং, যেখানে বাড়ির তালিকা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে হবে পপুলেশন এনুমারেশন, অর্থাৎ নাগরিকদের সংখ্যা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের গণনা।
অশ্বিনী বৈষ্ণব আরও বলেন, তথ্যভাণ্ডারের ধারাবাহিকতা ও গুরুত্ব বজায় রেখে ভারত গত ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত আদমশুমারের রেকর্ড সংরক্ষণ করে আসছে। ২০২৭ সালের আদমশুমার হবে ভারতের ১৬তম আদমশুমার এবং স্বাধীনতার পরে অষ্টম। গোটা প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে ১৯৪৮ সালের আদমশুমার আইন এবং ১৯৯০ সালের আদমশুমার বিধি অনুসারে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে এসআইআর-এর কাজ চলছে। এর মধ্যেই কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, আগামী বছরের এপ্রিল মাস থেকেই জনগণনার কাজ শুরু হবে। মঙ্গলবার রেলমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে প্রথম ধাপ এবং দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।
সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জনগণনা এগোলেও এনপিআর সংক্রান্ত কোনও উদ্যোগ এখনই নেওয়া হচ্ছে না—এটাই কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বশেষ অবস্থান।