চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ২০২৬ সালের জন্য ব্রিকস (BRICS) গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করল ভারত। বৃহস্পতিবার এই দায়িত্বভার গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথ বা দক্ষিণ গোলার্ধের উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় নতুন দিশা দেখানোর পথে হাঁটল নয়াদিল্লি। বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া শুল্ক নীতি যখন বিশ্ব বাণিজ্যকে অস্থির করে তুলেছে, তখন ভারতের এই নেতৃত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই গোষ্ঠী গত দুই বছরে ব্যাপক বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই জোটের অন্তর্ভুক্ত। সৌদি আরবকেও সদস্য হিসেবে তালিকায় রাখা হলেও রিয়াধের যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু ধোঁয়াশা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সম্প্রসারিত জোট এখন বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ২৯ শতাংশ বিশ্ব জিডিপির প্রতিনিধিত্ব করে।
India assumes BRICS presidency for 2026.
Frankly, BRICS has been a huge disappointment over the last three years, especially in creating new financial systems for trade.
In technology and infrastructure as well, there needs to be much more coordination. pic.twitter.com/PFTQmGX5Qy
— S.L. Kanthan (@Kanthan2030) January 1, 2026
তবে ভারতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন বাণিজ্য নীতি। গত আগস্টে ভারতীয় পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে, যার মধ্যে রুশ তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ জরিমানা অন্তর্ভুক্ত। এমনকি ব্রিকস দেশগুলো যদি মার্কিন ডলারের বিকল্প হিসেবে নিজস্ব কোনো মুদ্রা চালু করার চেষ্টা করে, তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোরও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত সরাসরি ডলার বিরোধী অবস্থানে না গিয়ে বরং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ওপর জোর দেবে।নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের গবেষকদের মতে, ভারত এই সভাপতিত্বের মেয়াদকালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) মতো বহুস্তরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি তুলবে। ভারতের মূল লক্ষ্য হবে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের মাধ্যমে বৈশ্বিক শাসনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর আরও জোরালো করতে সচেষ্ট হবে ভারত।
অন্যদিকে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, ঋণের বোঝা কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিলের মতো বিষয়গুলোকে ভারতের সভাপতিত্বে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২৩ সালে জি-২০ সভাপতিত্বের সময় ভারত যে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে হেঁটেছিল, ব্রিকসের মঞ্চেও সেই একই ধারা বজায় রাখা হবে। লক্ষ্য একটাই, শক্তিশালী দেশগুলোর রেষারেষির মাঝে যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমস্যাগুলো হারিয়ে না যায়।এদিকে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও ব্রিকস-অনুমোদিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দিতে আবেদন করেছে এবং জোটের সদস্য হতে রুশ ও চীনা সমর্থনের আশায় রয়েছে। তবে ভারত সদস্যপদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ এবং সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরির পক্ষে সওয়াল করেছে। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বার্তা, রাজনৈতিক কারণে নয় বরং অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বহুস্তরীয় ব্যবস্থায় দায়বদ্ধতার নিরিখেই নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সদস্য বৃদ্ধির ফলে যেন জোটের কার্যকারিতা কোনোভাবেই হ্রাস না পায়, ভারত সেদিকেই কড়া নজর রাখবে।