চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ওড়িশার ঢেনকানাল জেলায় একটি অবৈধ পাথর খাদানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার রাতের এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুই শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গোপালপুর গ্রামের নিকটবর্তী ওই খাদানটিতে বিস্ফোরণের পর ধস নামায় বেশ কিছু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাতটি উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাতে যখন শ্রমিকরা কাজ করছিলেন, তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। এর ফলে খাদানের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, চারদিকে পাথরের স্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এবং খাদানের ভেতর থেকে বড় বড় পাথরের চাঁই ভেঙে পড়ছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা রাতেই এলাকাটি ঘিরে ফেলেন। তবে অন্ধকারের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের। এই ঘটনার নেপথ্যে খনি মালিকের চরম গাফিলতি ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক ব্লাস্টিং অনুমোদন বা বিস্ফোরণ ঘটানোর অনুমতি না থাকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর খনি দপ্তর থেকে এই খাদানটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে এবং প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে রাতের অন্ধকারে সেখানে পাথর উত্তোলনের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অবৈধভাবে ব্লাস্টিং করার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করছেন আধিকারিকরা।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে প্রশাসনের বিশেষ দল এসে বেশ কিছু আহত কর্মীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। যদিও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত বিবৃতি দেওয়া হয়নি। খনি মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।