চিত্রঃ AI
Bangla Jago Desk: হায়দরাবাদে বর্ষবরণের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হল। নতুন বছর উদ্যাপন করতে গিয়ে বিষাক্ত খাবার বা ভেজাল মদের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন ৫৩ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১১ জন। বুধবার রাতে জগদগিরিগুটা এলাকার একটি কমিউনিটি হলে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নববর্ষ উপলক্ষে এলাকার বাসিন্দারা মিলে ওই কমিউনিটি হলে একটি ভোজের আয়োজন করেছিলেন। মেনুতে ছিল রুটি, চিকেন বিরিয়ানি এবং মাছের ঝোল। রান্নার তদারকি বাসিন্দারা নিজেরাই করেছিলেন। ভোজের পাশাপাশি সেখানে দেদার মদ্যপানের আসরও বসেছিল। সারা রাত উৎসব শেষে বৃহস্পতিবার সকালে সবাই বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু বিপত্তি ঘটে দুপুর গড়াতেই। একে একে অনেকেরই পেটে ব্যথা এবং বমি শুরু হয়, যার মধ্যে ৯ জন সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।
অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় মল্লা রেড্ডি এবং রাম দেব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমেন পান্ডু নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি ১১ জনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। ঘটনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান বালানগরের সহকারী পুলিশ কমিশনার নরেশ রেড্ডি এবং সার্কল ইন্সপেক্টর গড্ডাম মল্লেশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, খাদ্যে বিষক্রিয়া অথবা ভেজাল মদের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, রান্নার সময় লঙ্কা ও হলুদ গুঁড়ো ফুরিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি স্থানীয় একটি দোকান থেকে তা কিনে আনা হয়েছিল। সেই মশলায় কোনো সমস্যা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী দল কমিউনিটি সেন্টার থেকে অবশিষ্ট খাবার ও মদের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছে।
এসিপি নরেশ রেড্ডি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আপাতত ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উৎসবের আবহে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।