চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পাঁচ বছর একটানা কাজ করার পর কোনো কর্মী পদত্যাগ করলে বা স্বেচ্ছাবসর নিলে তিনি পেনশন পাওয়ার অধিকারী না হলেও তাঁকে গ্র্যাচুইটি থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি মনমোহনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দিয়েছে। শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, ১৯৭২ সালের ‘সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিস (পেনশন) রুলস’ অনুসারে, পাঁচ বছর পর পদত্যাগ করা কর্মীর পেনশন পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু ‘পেমেন্ট অব গ্র্যাচুইটি অ্যাক্ট’-এর ৪ নম্বর সেকশন অনুযায়ী, যদি কোনো কর্মী একটানা পাঁচ বছর কাজ করেন, তবে তাঁকে অবশ্যই গ্র্যাচুইটির টাকা দিতে হবে।
অশোক কুমার দাবাস নামে এক প্রয়াত কর্মীর পরিবারের দায়ের করা একটি মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অশোক কুমার দাবাস দিল্লি ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন বা ডিটিসি-তে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৫ সালে কনডাক্টর হিসেবে সংস্থায় যোগ দেন। প্রায় ৩০ বছর কাজ করার পর, ২০১৪ সালে তিনি পারিবারিক কারণে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।২০১৫ সালে তিনি তাঁর ইস্তফাপত্র তুলে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সংস্থা তাতে রাজি হয়নি।
অবসরকালীন প্রাপ্য টাকা চাইতে গেলে সংস্থার তরফে তাঁকে জানানো হয় যে তিনি প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) ছাড়া অন্য কোনো সুবিধাই পাবেন না। এরপর তিনি প্রথমে সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল এবং পরে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট, উভয় জায়গাতেই তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপরই তাঁর পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলার শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট আংশিকভাবে আবেদনটি মেনে নেয়। ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, ডিটিসি-কে অবিলম্বে ওই কর্মীকে গ্র্যাচুইটির টাকা এবং তাঁর বাকি থাকা ছুটির টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। তবে যেহেতু তিনি নিয়ম অনুযায়ী পেনশন পাওয়ার যোগ্য নন, তাই তাঁকে পেনশন দেওয়া হবে না।