চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: পশ্চিমবঙ্গে শীতের আমেজ ফুরিয়ে এখন দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত। কিন্তু স্বস্তির বদলে এবার উদ্বেগের খবর শোনালেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে আগামী কয়েক দশকেই পৃথিবীর একটি বিশাল অংশ চরম দাবদাহের কবলে পড়তে চলেছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যদি বিশ্বের গড় তাপমাত্রা আর মাত্র ২ ডিগ্রি বৃদ্ধি পায়, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৩৭০ কোটি মানুষ অসহনীয় গরমের শিকার হবেন। বর্তমানে বিশ্বের ২৩ শতাংশ মানুষ এই পরিস্থিতির মধ্যে থাকলেও খুব দ্রুত সেই সংখ্যা ৪১ শতাংশে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো জনবহুল দেশগুলির জন্য এই পূর্বাভাস অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অক্সফোর্ডের গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে গ্রীষ্মের স্থায়িত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ বছরের যে সময়টুকু গরমকাল হিসেবে পরিচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি দিন ধরে মানুষকে তীব্র গরম সহ্য করতে হবে। ভারত ছাড়াও নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপিন্সের মতো দেশে সাধারণ মানুষের জনজীবন এই এক্সট্রিম হিট বা চরম তাপমাত্রার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। এমনকি ব্রাজিল ও মধ্য আফ্রিকার দেশগুলিতেও পারদ চড়বে রেকর্ড হারে। পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াতেও এই পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। জানুয়ারির শেষেই শীত বিদায় নিতে শুরু করেছে এবং ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই দিনের তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে এল নিনোর প্রভাবে এবারের গ্রীষ্ম সাম্প্রতিক অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। মার্চ মাসেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘর স্পর্শ করা এবং এপ্রিলে প্রবল তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
গবেষণার একটি চমকপ্রদ তথ্য হলো, শুধু নাতিশীতোষ্ণ দেশ নয়, শীতপ্রধান দেশগুলিতেও গরমের প্রকোপ বাড়বে কয়েক গুণ। তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি বাড়লে অস্ট্রিয়া ও কানাডায় উষ্ণ দিনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে ব্রিটেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশে, যেখানে উষ্ণ দিনের সংখ্যা দেড়শো গুণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডের মতো দেশেও গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়তে পারে ২০০ থেকে ২৩০ শতাংশ পর্যন্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ধরণও বদলে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এমন অনেক দেশে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে, যেখানে আগে এর কোনও চল ছিল না। বিশেষ করে কানাডা ও সুইৎজারল্যান্ডের মতো শীতল দেশগুলিতেও এখন লক্ষ লক্ষ পরিবারকে অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে কৃত্রিম শীতলতার ওপর নির্ভর করতে হবে। সামগ্রিকভাবে প্রকৃতির এই রদবদল মানবজাতির জন্য এক বড়সড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।