চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: কর্নাটকের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আরও পথ দুর্ঘটনার খবর সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, এবার থেকে পথ দুর্ঘটনায় জখম হলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন আহতরা। খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের সূচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
সড়ক পরিবহণ মন্ত্রকের ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু ২০২৩ সালেই দেশে মোট ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৫৮৩টি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতি তিন মিনিটে একজন করে মানুষের প্রাণ গেছে রাস্তায়। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানকে সামনে রেখেই পথ নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পরিবহণমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর একগুচ্ছ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানান গড়করি। পথ নিরাপত্তা, যাত্রী সুরক্ষা, যান নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ থেকে চণ্ডীগড়ে। পরে আরও ছ’টি রাজ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। এবার ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের মাধ্যমে গোটা দেশেই এই সুবিধা চালু হতে চলেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মোটরযান দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে দুর্ঘটনার দিন থেকে পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা খরচ বহন করবে সরকার। এর ফলে দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। চালু হতে চলেছে ‘ভি টু ভি’ বা ভেহিকল-টু-ভেহিকল প্রযুক্তি। এই ব্যবস্থায় একটি গাড়ির চালক আগেভাগেই অন্য গাড়ির গতি, অবস্থান ও সম্ভাব্য বিপদের তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি ওয়্যারলেস প্রযুক্তির মাধ্যমে এক চালক অন্য চালকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করতে পারবেন।
এছাড়াও মোটরযান আইনে বড়সড় সংশোধনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। নিরাপত্তা, নাগরিক পরিষেবা ও আয়বৃদ্ধি—এই তিনটি দিক মাথায় রেখে মোট ৬১টি সংশোধনী আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন গড়করি।
চলন্ত বাসে আগুন লেগে প্রাণহানির ঘটনাগুলিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে মন্ত্রক। রাজস্থান ও অন্ধ্রপ্রদেশে ঘটে যাওয়া একাধিক দুর্ঘটনায় যাত্রীরা বেরোতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই স্লিপার কোচ বাসের ক্ষেত্রে কড়া নিরাপত্তা বিধি জারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন স্লিপার কোচ বাসে বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে আগুন শনাক্ত ও নেভানোর ব্যবস্থা, জানালার কাচ ভাঙার হাতুড়ি, আপৎকালীন প্রস্থানপথ, জরুরি আলো এবং চালকের ঘুম নির্ণয়কারী প্রযুক্তি। শুধু নতুন বাস নয়, ইতিমধ্যে রাস্তায় চলাচলকারী স্লিপার কোচগুলিতেও ধাপে ধাপে এই সব ব্যবস্থা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।
মন্ত্রকের বক্তব্য, এই নিয়মগুলি কার্যকর হলে বাসে আগুন লাগার মতো পরিস্থিতিতেও যাত্রীদের প্রাণরক্ষা ও দ্রুত উদ্ধার অনেকটাই নিশ্চিত করা যাবে। পথ নিরাপত্তার প্রশ্নে আর কোনও আপস নয়—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে দিল কেন্দ্র।