Bangla Jago TV Desk : এবার চিঠিতেও বসিয়ে দেওয়া হল জিএসটি। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের কথা আগাম জানতে পারেননি ডাক কর্মীরা। গ্রাহকেরা তো নয়ই। এর ফলে সমস্যায় পড়তে হয়েছে দুই তরফকেই। এদিকে ছিল না কোন আগাম সার্কুলার। পহেলা নভেম্বরে ডাকঘরে চিঠি ইস্যু করতে গিয়ে কর্মীরা জানতে পারেন ১৮ শতাংশ জিএসটি লাগু করা হয়েছে। অর্থাৎ রেজিস্টার চিঠি ও পার্সেল পাঠাতে গেলেও গ্রাহকদের গুনতে হবে বাড়তি টাকা। একইসঙ্গে কুরিয়ার সার্ভিসের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ডাকঘর সুত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন 22 টাকা খরচ হতো কুড়িগ্রাম ওজনের রেজিস্টার চিঠি পাঠাতে । এবার ১৮% জিএসটি যুক্ত হওয়ায় তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকায়। অন্যদিকে ২৭ টাকা খরচ হতো কুড়িগ্রাম ওজনের রেজিস্টার চিঠি পাঠাতে। তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা। ৬০গ্রাম ওজনের রেজিস্টার চিঠির ক্ষেত্রে জি এস টি যুক্ত হয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের পার্সেল এর ক্ষেত্রে এতদিন ৩৮ টাকা ধার্য করা হতো ১৮ শতাংশ জিএসটি যুক্ত হয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা। এছাড়াও বুক প্যাকেট, আনরেজিস্টার্ড পার্সেল, সার্ভিস মানি অর্ডার, পোস্ট বক্স, এমনকী রেজিস্টার্ড সংবাদপত্রের মতো ২৭টি পরিষেবায় কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ফলত কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের দাবি যে, মধ্যবিত্তের টাকায় ভরছে কেন্দ্রের রাজকোষ।
ডাক বিভাগের কর্মীদের তরফ থেকে জানা গিয়েছে আমজনতাকে অন্ধকারে রেখেই এই জিএসটি লাগু করা হয়েছে। আগের থেকে জানানো হলে, ডাক বিভাগের কর্মীদের সুবিধা হতো। যদিও প্রশ্ন উঠছে যে, হঠাৎ করে কেন অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে? এর ফলে তো সমস্যায় পড়ছেন কর্মীদের। প্রতিযোগিতার বাজারে গ্রাহকদের ডাকঘর মুখী করতে প্রয়োজনীয় উন্নত পরিষেবা দেওয়ার বদলে জিএসটি লাগু করা হচ্ছে। এমনিতেই যেখানে পোস্ট অফিস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন গ্রাহকদের একাংশ। সেখানে এই ১৮% জিএসটি লাগু করে গ্রাহকদের ঘাড়ে কেন্দ্র আর্থিক বোঝা চাপাচ্ছে। যে সমস্ত চিঠি সরকারিভাবে পাঠানো বাধ্যতামূলক সেগুলি গ্রাহকরা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠালেও অন্যান্য বাকি চিঠি গ্রাহক বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেবে।
FREE ACCESS