চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজস্থানে গ্রেফতার হলেন জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর এক প্রাক্তন কমান্ডো বজরং সিং। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া এই যোদ্ধাই এবার মাদক পাচার চক্রের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে। গভীর রাতে রাজস্থানের চুরু জেলা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে রাজস্থান পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বজরং সিং তেলেঙ্গানা এবং ওড়িশা থেকে গাঁজা এনে রাজস্থানে পাচার করছিলেন। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২০০ কেজি নিষিদ্ধ মাদক উদ্ধার হয়েছে। সিকার জেলার বাসিন্দা বজরং সিং-এর বিরুদ্ধে আগে থেকেই নজরদারি চলছিল। তাঁকে ধরিয়ে দিতে পুলিশ ২৫,০০০ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল (Drug Trafficker)।
আরও পড়ুনঃ বিচ্ছেদ গুঞ্জনের মাঝেই স্বামী-সন্তানকে নিয়ে সিঁদুর খেললেন নুসরত
রাজ্যের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এবং মাদকবিরোধী টাস্ক ফোর্স-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অপারেশন গাঞ্জনে–এর আওতায় গত দুই মাস ধরে তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছিল। দীর্ঘ প্রযুক্তিগত নজরদারি, আত্মীয়দের যোগাযোগের সূত্র ধরে অবশেষে চিহ্নিত হয় তাঁর আস্তানা। বুধবার মোটরসাইকেল চালাতে দেখা গেলেও ঝুঁকি এড়াতে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করেনি। পরে গোপন আস্তানায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।জানা গিয়েছে, গ্রেফতার এড়াতে তিনি ভুয়া মোবাইল আইডি ব্যবহার করতেন এবং প্রত্যন্ত গ্রামে আত্মগোপন করে থাকতেন। এমনকি রাঁধুনির মাধ্যমেও তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছিল পুলিশ। এই প্রসঙ্গে রাজস্থান পুলিশের ডিআইজি বিকাশ কুমার বলেছেন, এই অভিযানটি কয়েক সপ্তাহের পরিকল্পনা এবং গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির ফলাফল। বজরংয়ের মতো একজন নিষ্ঠুর অপারেটিভের গ্রেপ্তার রাজস্থানে সন্ত্রাস-মাদক কারবারীদের কাছে বড় ধাক্কা (Drug Trafficker)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
উল্লেখ্য, বজরং সিং-এর অতীতও কম আলোচিত নয়। দশম শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর সুগঠিত শরীর ও ফিটনেস তাঁকে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীতে যোগদানের সুযোগ দেয়। বিএসএফ-এ কনস্টেবল হিসেবে কাজ করার সময় তিনি পাঞ্জাব, অসম, রাজস্থান, ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তাঁর নিষ্ঠা ও দক্ষতার জন্য নির্বাচিত হন অভিজাত বাহিনী এনএসজি-তে। সাত বছর এনএসজি কমান্ডো হিসেবে কাজ করেছেন তিনি, অংশ নিয়েছিলেন ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতো ঐতিহাসিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে।যে মানুষ এক সময় দেশের সীমান্ত রক্ষায় এবং সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তিনিই বর্তমানে মাদক পাচার চক্রের নেপথ্যে—এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Drug Trafficker)।l