চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দেশের জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সবরকম বিরোধিতাকে সরিয়ে রেখে এবার পেট্রোলের বিকল্প হিসেবে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই— আগামী দিনে দেশের রাজপথে ছুটবে মূলত ইথানল চালিত গাড়ি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোলিয়াম সংস্থাগুলির জন্য একটি নতুন নিয়মের খসড়া প্রস্তুত করেছে। এই নতুন পরিকল্পনায় জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে গাড়িতে যে জ্বালানি ব্যবহৃত হবে তাতে থাকবে ৮৫ শতাংশ ইথানল এবং মাত্র ১৫ শতাংশ পেট্রোল। এই বিশেষ জ্বালানি মিশ্রণটির নাম দেওয়া হয়েছে E85। সরকারের শীর্ষ মহলে এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিও প্রাথমিক সম্মতি জানিয়েছে। এমনকি নতুন এই জ্বালানি নিয়ে পরীক্ষামূলক কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে বলে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে এই পরিবর্তনের পথে একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমান বাজারে যে সমস্ত গাড়ি চলাচল করছে, সেগুলির ইঞ্জিন সরাসরি E85 জ্বালানিতে চালানোর উপযোগী নয়। এই উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করতে হলে গাড়ির ইঞ্জিনে বিশেষ রদবদল আনতে হবে। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তারা এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। যদিও পরিকাঠামো তৈরি এবং বাজারজাত করতে আরও অন্তত বছর দুয়েক সময় লাগতে পারে।
ইথানল ব্যবহারের নেপথ্যে একাধিক জোরালো যুক্তি দিচ্ছে মোদী সরকার। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের আবহে অপরিশোধিত তেলের অনিশ্চয়তা এবং আকাশছোঁয়া দাম ভারতের বিদেশি মুদ্রা ভাণ্ডারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইথানল দেশীয় পদ্ধতিতে আখের ছিবড়ে বা ভুট্টা থেকে তৈরি করা যায়, ফলে আমদানির খরচ অনেক কমবে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ রক্ষায় ইথানল অত্যন্ত কার্যকর। আখের ছিবড়ে থেকে তৈরি ইথানল ৬৫ শতাংশ এবং ভুট্টা থেকে তৈরি ইথানল প্রায় ৫০ শতাংশ কার্বন নির্গমন কমাতে সাহায্য করে।
কেন্দ্রের দাবি, পেট্রোলে ইথানল মেশালে গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ু যেমন বাড়বে, তেমনই জ্বালানির সাশ্রয় বা মাইলেজও বৃদ্ধি পাবে। ইতিপূর্বে সরকার E20 জ্বালানি (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল) চালু করলেও তাতে আশানুরূপ ফল মেলেনি। তাই এবার সরাসরি ৮৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিজেপি সরকার। পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সাশ্রয়— এই দুই লক্ষ্যপূরণেই ইথানল বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে মরিয়া নয়াদিল্লি।