চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দিল্লির শালিমার বাগে দিনেদুপুরে এক মহিলাকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২০২৩ সালের বিজেন্দ্র যাদব হত্যার ঘটনা জড়িত থাকতে পারে।
নিহত মহিলার নাম রচনা যাদব। তিনি শালিমার বাগ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় RWA-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। শনিবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে তিনি এক প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে ফেরার সময় দু’জন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একজন দুষ্কৃতী প্রথমে তাঁর নাম জানতে চায়। রচনা নিজের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গুলিবর্ষণ করা হয় এবং খুনি পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই রচনা যাদবের মৃত্যু হয়। মৃতদেহের পাশে একটি খালি কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, খুনের সঙ্গে আরও একজন সহযোগী যুক্ত ছিল, যিনি একটি স্পোর্টস বাইকে অপেক্ষা করছিলেন। ঘটনার পরে দু’জন দ্রুত বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। পুলিশের ধারণা, রচনার চলাফেরা ও দৈনন্দিন কার্যকলাপ পূর্বেই নজরদারি করা হয়েছিল এবং পরিকল্পনা পূর্বনির্ধারিত ছিল।
২০২৩ সালে রচনার স্বামী বিজেন্দ্র যাদবকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই মামলায় ভরত যাদবসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। পাঁচজন গ্রেফতার ও বিচারাধীন থাকলেও মূল অভিযুক্ত ভরত যাদব এখনও পলাতক। আদালত তাঁকে ‘প্রোক্লেমড অফেন্ডার’ ঘোষণা করেছে। রচনা ছিলেন সেই মামলার মূল সাক্ষী, তাই ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে নিকেশ করার জন্যই এই হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশের ফরেন্সিক দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পলাতক ভরত যাদবের ভূমিকা পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শ্যুটার এবং পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে।
রচনার বড় মেয়ে কনিকা যাদব অভিযোগ করেছেন, “আমার বাবার খুনের পরও জেল থেকে এবং বাইরে থেকে পরিকল্পনা চলছিল। আমার মায়ের খুনও ভরত যাদবের পরিকল্পনা।” তিনি জানান, রচনা দৃঢ়ভাবে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত ছিলেন, তাই আতঙ্কিত অভিযুক্তরা এই হামলা চালিয়েছে।
রচনার দুই কন্যার মধ্যে একজন বিবাহিত, অন্যজন তাঁর সঙ্গে থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের পরে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ এখনও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে।