চিত্র- সংগৃহীত
AK Bangla Desk: স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগের দিনেই বিস্ফোরণের জোড়া হুমকিবার্তাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল দেশজুড়ে। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে দিল্লি হাইকোর্ট, ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (IGI Airport) টার্মিনাল-৩ সহ রাজধানীর একাধিক হাই-প্রোফাইল এলাকায় একযোগে বোমা হামলার ইমেল আসে। এমনকি দিল্লি হাইকোর্টে পাঠানো সেই বিতর্কিত ইমেলে ভারতের ঐতিহাসিক লালকেল্লাকেও নিশানা করার খোলাখুলি হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ইমেল পাওয়ার পরপরই তড়িঘড়ি রাজধানীর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়াল দিল্লি পুলিশ।
স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে প্রতি বছরই দিল্লি জুড়ে এমনিতেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর বা নাশকতাপূর্ণ ঘটনা এড়াতে রাজধানীজুড়ে জারি থাকে হাই অ্যালার্ট। তারই মাঝে সূত্রের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টা ৪৩ মিনিট নাগাদ দিল্লি হাইকোর্টের রেজিস্টার জেনারেলের কাছে একটি হুমকি ইমেল পৌঁছায়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, আগামী ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লাকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালানো হবে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ইমেলে দাবি করা হয়েছে, এই বিস্ফোরণের উদ্দেশ্যে যাদের নিয়োগ করা হয়েছে তারা সকলেই পুলিশের ‘খাকি’ পোশাকে লুকিয়ে থাকবে। ইমেলটি পাওয়ার পরেই তড়িঘড়ি রেজিস্টার জেনারেল দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সঙ্গে সঙ্গে বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড এনে হাই কোর্ট ও আশেপাশের চত্বরে তন্ন তন্ন করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। যদিও দীর্ঘ তল্লাশির পর সন্দেহজনক কিছুই মেলেনি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হুমকি ইমেলের পেছনে ‘খলিস্তানি’ জঙ্গি সংগঠনের হাত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দিল্লি থেকে ‘পাক সমর্থিত’ শেহজাদ ভাট্টি মডিউলের প্রায় ৯ জন সক্রিয় জঙ্গিকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, দিল্লির এক বিখ্যাত মন্দির এবং হরিয়ানার সেনাছাউনিতে হামলা চালানোর ছক কষেছিল তারা। এরপর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে স্লিপার সেলগুলির খোঁজে লাগাতার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা (Special Cell)। তার মাঝেই স্বাধীনতা দিবসের ঠিক মুখে এই ইমেল বারতায় রীতিমতো উদ্বেগের মেঘ নেমে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের কপালে।