চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার অভিযোগে আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্টে চলা এই মামলায় সম্প্রতি নিজের লিখিত জবাব দাখিল করেছেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন। যেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে ১৯৮০ সালের দিল্লির একটি বুথের ভোটার তালিকার ছবি প্রকাশ করে দাবি করা হয় যে, ১৯৮৩ সালে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার তিন বছর আগেই সোনিয়া গান্ধীর নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ছিল। মালব্য আরও অভিযোগ করেন, ১৯৮২ সালে প্রতিবাদের মুখে নাম বাদ গেলেও ১৯৮৩ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় তাঁর নাম তালিকায় ঢোকানো হয়। অথচ সরকারি নথি অনুযায়ী, তিনি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন ওই বছরেরই এপ্রিল মাসে।
আদালতের নির্দেশে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী জানান, এই মামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে এবং অভিযোগের সপক্ষে কোনও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নেই। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে জমা দেওয়া জবাবে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখার একমাত্র এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের, কোনও ফৌজদারি আদালতের নয়। একইসঙ্গে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি আদালত এই বিষয়ে জবাব চাইলে পুরনো নথিপত্র জোগাড়ের জন্য বাড়তি সময় চেয়ে নিয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী। শনিবার সিবিআইয়ের স্পেশাল বিচারপতির এজলাসে তিনি তাঁর বক্তব্য জমা দিলেও, ভোটার তালিকায় আগে নাম থাকা প্রসঙ্গে কোনও অকাট্য প্রমাণ বা ব্যাখ্যা দেননি বলেই পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত। বরং আইনি যুক্তিতেই বিষয়টি মোকাবিলা করতে চাইছেন তিনি। আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।