চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: নিষিদ্ধ চাইনিজ মাঞ্জার ব্যবহারে মৃত্যু বা দুর্ঘটনা ঘটলে এবার কড়া আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে অভিভাবকদেরও। সোমবার এক তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ জানিয়েছে, যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ককে এই বিপজ্জনক সুতো দিয়ে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়, তবে তার আইনি দায় বর্তাবে অভিভাবকদের ওপর।বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা এবং বিচারপতি অলক অবস্থির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চাইনিজ মাঞ্জা বিক্রি বা ব্যবহার করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৬(১) ধারা (অসাবধানতাবশত মৃত্যু ঘটানো) অনুযায়ী মামলা দায়ের হতে পারে। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সকলে এই কঠোর শাস্তির বিষয়ে অবগত থাকেন।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর চাইনিজ মাঞ্জার কারণে ঘটা মৃত্যু ও দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলাটি গ্রহণ করেছিল। শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এই ধরনের সুতো বিক্রি বন্ধ করতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেউ যদি এই নিষিদ্ধ সুতো বিক্রি বা ব্যবহার করেন, তবে তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষত অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদের দায়বদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। ইন্দোরের জেলাশাসক শিবম ভার্মা আদালতকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, দ্রুত এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড় মাসে ইন্দোরে চাইনিজ মাঞ্জায় গলা কেটে ১৬ বছরের এক কিশোর এবং ৪৫ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঘুড়ি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের সুতো কাটার জন্য মূলত নাইলন বা সিন্থেটিক দিয়ে তৈরি এই ধারালো মাঞ্জা ব্যবহার করা হয়। প্রশাসনের তরফে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গোপনে এর ব্যবহার চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত।