চিত্রঃ প্রতীকী
Bangla Jago Desk: ঝাড়খণ্ডের চাইবাসায় এক বিশালকায় দাঁতাল হাতির আক্রমণে পরিস্থিতি চরম ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত পাঁচ দিনে পশ্চিম সিংভূম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এই হাতির তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন মানুষ। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। প্রাণভয়ে অনেক আদিবাসী পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছেন। বন দফতরের উদাসীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে নোয়ামুন্ডি ব্লকের বাবারিয়া গ্রামে। সেখানে হাতির হামলায় একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছে দুটি শিশুও। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট হাতিই টন্টো, মুফাসিল এবং গোয়েলকেরা সহ বিভিন্ন এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কোলহান বন বিভাগ এলাকায় হাতিটির বর্তমান অবস্থান চিহ্নিত করা গেলেও সেটিকে বাগে আনতে কার্যত ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন হাতির হানা চললেও বন দফতর কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। হাতি তাড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন বাঁচাতে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় পুরুষরা। কিন্তু তাতেও আতঙ্কের রেশ কাটছে না। বন দফতরের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবার পিছু ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে। তবে গ্রামবাসীরা এই সামান্য সাহায্যে সন্তুষ্ট নন।
বিক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষের দাবি, শুধু টাকা দিয়ে প্রাণের ক্ষতিপূরণ সম্ভব নয়। হাতিটির গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর পাশাপাশি এলাকায় অবিলম্বে প্রশিক্ষিত কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন করতে হবে। বন দফতর দ্রুত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে এই মৃত্যু মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাতিটির অবস্থানের কারণে গোটা পশ্চিম সিংভূম জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।