চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মহারাষ্ট্রে স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। রাজ্যের সবচেয়ে বড় পুরসভা বৃহন্নুম্বই পুর কর্পোরেশন (বিএমসি) দখলকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি শিবসেনা নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আঘাড়ি এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এই নির্বাচনী আবহে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভি।
বিএমসি নির্বাচনের আগে রবিবার বিজেপি, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) এবং একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার জোট ‘মহাজুটি’ তাদের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেছে। এই ইস্তেহারে মহিলাদের জন্য সুদবিহীন পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারের মতো একাধিক নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
তবে এই সব প্রতিশ্রুতির মধ্যেও সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে ‘বস্তিমুক্ত মুম্বই’ গড়ার ঘোষণা। ধারাভির মতো বিশাল বস্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বস্তিমুক্ত মুম্বই গড়া সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন আদৌ কতটা সম্ভব, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভির পুনর্গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয় আদানি গোষ্ঠীকে। প্রায় ৫,০৬৯ কোটি টাকার বিনিময়ে এই উন্নয়ন প্রকল্পের বরাত পায় শিল্পগোষ্ঠীটি। যদিও ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা এই বস্তির উন্নয়ন নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, পুনর্গঠনের ফলে ধারাভির নিজস্ব চরিত্র নষ্ট হবে এবং পর্যটকদের আকর্ষণও কমে যেতে পারে।
মধ্য মুম্বইয়ে প্রায় ৩০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ধারাভি এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বস্তি। এখানে বসবাস করেন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ। গত ১৫ বছর ধরে ধারাভি পুনর্গঠন প্রকল্প কার্যত থমকে রয়েছে। এই সময়ে অন্তত চারবার টেন্ডার ডাকা হলেও নানা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
ইস্তেহার প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানান, এই ইস্তেহারে মুম্বইবাসীর দৈনন্দিন জীবন সহজ করার পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধব ঠাকরেকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মহাজুটি হিন্দুত্বের পাশাপাশি উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেয়।
একনাথ শিন্ডে বলেন, “এই ইস্তেহারে আমরা গত সাড়ে তিন বছরে মুম্বইয়ের জন্য কী কাজ করেছি, তা তুলে ধরা হয়েছে। আমরা উন্নয়নের গতি আরও বাড়াতে চাই এবং মুম্বই ছেড়ে যাওয়া মারাঠি মানুষদের ফিরিয়ে আনতে চাই।” প্রাক্তন শিবসেনা নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, আগে যারা বিএমসি-র দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করেননি।