চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টির। প্রচুর প্রচার, বড় বড় দাবি, নানা ইস্যুতে জোরাল অবস্থান সবকিছুর পরও একটি আসনও জিততে পারেনি দল। ভোটের ফল বেরোনোর পর শনিবার দলের পক্ষ থেকে পরাজয়ের স্বীকার করা হয়। সেইসঙ্গে তারা জানিয়েছে নির্বাচনে পরাজয় হলেও কোনওভাবেই বিচলিত নয় জন সুরাজ। দলের জাতীয় সভাপতি উদয় সিং বলেন, ‘ ফলের জন্য আমরা হতাশ। কিন্তু বিচলিত নই। একটিও আসন জিততে না পারলেও আমরা এনডিএ-র বিরোধিতা চালিয়ে যাব।‘ তিনি স্বীকার করেন, দল মুসলিম ভোটারদের মন জয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর কথায়, এই জনাদেশ স্পষ্ট করেছে—বিহারের মানুষ আরজেডির প্রত্যাবর্তন চায় না।
উদয় সিং দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে চালু হওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’ এনডিএ-র বিরাট জয়ের অন্যতম ভিত্তি। এই প্রকল্পে বিহারের ৭৫ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সফল মহিলা উদ্যোক্তারা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাবেন বলেও ঘোষণা হয়েছে। উদয় সিং-এর অভিযোগ, এই প্রকল্প নির্বাচনের আগে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার সমান। আদর্শ আচরণবিধি জারি থাকাকালেই টাকা পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও দাবি করেন, সরকার মোট ৪০ হাজার কোটি টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে, যা গোটা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। এখন তারা অপেক্ষা করছে—বাকি ২ লক্ষ টাকার অনুদান প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয় কি না।
এদিকে প্রশান্ত কিশোর আগেই বলেছিলেন—জেডিইউ ২৫টির বেশি আসন পেলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। বাস্তবে জেডিইউ পেয়েছে ৮৫টি আসন। এ প্রসঙ্গে উদয় সিং বলেন, এ নিয়ে উত্তর দিতে পারবেন শুধু প্রশান্ত কিশোরই।বিহারে এনডিএ-র জয়ের ধাক্কায় কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়েছে মহাজোট। বিজেপি ও জেডিইউ—উভয় দলই প্রায় ৮৫ শতাংশ আসনে জয়ের নজির গড়েছে। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় ২০০-র বেশি আসন পেয়ে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে এনডিএ।নানা প্রচার, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়তা, বড় বড় দাবি—সবকিছু মিলিয়েও রাজনীতির কঠিন বাস্তব এবার স্পষ্ট বুঝলেন প্রশান্ত কিশোর, এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।