চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়েন শেষে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমান ও বিএনপি-কে এই ‘নির্ণায়ক’ জয়ের জন্য উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন (Bangladesh Election)।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলা ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, “আমি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক বিজয়ের অভিমুখে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনাব তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এই ফলাফল আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি।”
আমি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপিকে নির্ণায়ক বিজয়ের অভিমুখে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনাব তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
এই ফলাফল আপনার নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে তার…
— Narendra Modi (@narendramodi) February 13, 2026
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি উদ্বিগ্ন ছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের নির্বাচনের আগে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলেছিল (Bangladesh Election)।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দিল্লির দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল সম্পর্ক ছিল। বাণিজ্য, পরিবহন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং জলবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে হাসিনাকে বরাবরই ভারতের বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে দেখা হতো। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষিদ্ধ এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিএনপি-র জয় ভারতের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ—উভয়ই নিয়ে এসেছে।
দিল্লির নীতিনির্ধারকদের স্মৃতিতে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময়কার কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, যার মধ্যে ২০০৪ সালের চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা এবং আন্তঃসীমান্ত বিচ্ছিন্নতাবাদ অন্যতম। তবে এবার তারেক রহমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘রিসেট’ বা নতুন করে শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন, তিস্তা জলবণ্টন সমস্যার সমাধান এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তা সত্ত্বেও তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাসিনা আমলের মতো ভারতের সাথে কৌশলগত সম্পর্কের যে পূর্ণ সারিবদ্ধতা ছিল, নতুন সরকারের অধীনে তাতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে (Bangladesh Election)।