Bangla jago Desk: তামিলনাড়ুতে ট্রেন দুর্ঘটনায় রেলের ব্যর্থতা প্রকট। প্রশ্ন উঠছে, কিভাবে বাগমতী এক্সপ্রেস গতিতে এসে মালগাড়ির পিছনে ধাক্কা মারল ? রেল ম্যানেজমেন্টের অব্যবস্থা কেন বারবার স্পষ্ট হচ্ছে? সিগন্যালিং সিস্টেমে গলদ নাকি বেপরোয়া গতির জন্য এই মাসুল দিতে হল, তার ধোঁয়াশা কাটেনি। আতঙ্কিত যাত্রীরা রেলমন্ত্রকের কাণ্ডজ্ঞানহীন ভূমিকার কড়া সমালোচনা করছে। কেউ কেউ বলছেন, যে দেশে বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন দেখানো হয়, সেদেশে যাত্রীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি কেন খেলা হচ্ছে ?
উৎসবের আনন্দে যখন দেশের মানুষ মাতোয়ারা, তখন রেল যাত্রীদের আতঙ্কের প্রহর যেন কাটছে না। আবারও তামিলনাড়ুতে বাগমতী এক্সপ্রেসের মালগাড়িকে ধাক্কা মারার ঘটনা একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যেতে মাইসুরু থেকে বিহারের দ্বারভাঙার দিকে যাচ্ছিল যাত্রীবাহী বাগমতী এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে যাত্রী ছিল ১৩০০জন। থিরুভাল্লুরের কাছে কাভারাপেট্টাই স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালগাড়িকে সজোরে ধাক্কা মারে ট্রেনটি। তাতে বেলাইন হয় ১২টি কোচ,১৯জন তাতে আহত হন। হৃদপিণ্ডে কাঁপন ধরানো সেই ধাক্কা যাঁরা অনুভব করেন,তাঁদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি।বিশেষ করে যেভাবে আগুন জ্বলে ওঠে তাতে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখ থেকে ফিরে আসা মানুষজন বলছেন,বরাতজোরে বেঁচে ফিরলেও রেলের বারবার ব্যর্থতাকে কোনও দিনই ক্ষমা করা যায় না।
ঠিক কী কারণে এই বিপদ হয় ? সাউথ রেলওয়ের আধিকারিক আরএন সিং জানিয়েছেন,সিগন্যাল আর রুটের সমন্বয়হীনতার মাসুল দিতে হয় যাত্রীদের। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে এতবড় বিপদ হয়,তার কারণ অনুসন্ধান করে জানাবে রেলওয়ে সেফটি কমিশনার। এর আগে ২০২৩এ উড়িষ্যার বাহানাগায় করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।তারপর একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন বেলাইন হয়।চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে উত্তরবঙ্গে ঘটে ফের রেল দুর্ঘটনা।
ময়নাগুড়িতে লাইনচ্যুত হয় মালগাড়ি। রাঙাপানির পর এবার জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি রেল স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয় মালগাড়ির বেশ কয়েকটি বগি। সেই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলের সামগ্রিক ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খোলেন। মুখ্যমন্ত্রী তোপ দাগেন, বেলাইনে বিশ্বরেকর্ড করেছে রেল। মানুষের সেফটি, সিকিউরিটি বলে কিছু নেই। বিরোধীরাও বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন দেখানো মোদি সরকারকে কটাক্ষ হানছে।ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা বলছেন, যিনি হেলে ধরতে পারেন না তিনি কী করে কেউটে ধরবেন ?