চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: গুরুতর অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি এফআইআরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম থাকলেও তাঁর নামের আগে ‘মাননীয়’ বা ‘সম্মানীয়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়নি। আর সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করলেও এফআইআর নথিভুক্ত করার সময় প্রোটোকল মেনে অভিযুক্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদমর্যাদা অনুযায়ী যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা পুলিশের দায়িত্ব।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি জেজে মুনির ও বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নামের আগে ‘মাননীয়’ বা ‘সম্মানীয়’ শব্দ ব্যবহার করা হয়নি, তা ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্র সচিবকে হলফনামা জমা দিতে হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অভিযোগকারীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগে যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম যথাযথভাবে না-ও লেখা থাকে, তবু পুলিশের উচিত ছিল এফআইআর রেকর্ড করার সময় নিয়ম মেনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামের আগে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা। এই বিষয়ে অবহেলা আদালতের নজরে এসেছে বলেই মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
জানা গিয়েছে, টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ পরিচয় রয়েছে বলে দাবি করে এক যুবক তাঁর কাছ থেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নেয়। কিন্তু পরে চাকরি দেওয়া হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। অভিযোগকারীর আরও দাবি, টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই মামলায় অভিযোগপত্রে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম উল্লেখ থাকলেও তিনি সরাসরি অভিযুক্ত নন। তবুও এফআইআরে মন্ত্রীর নামের আগে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করায় আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এই মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিংবা উচ্চপদস্থ কোনও জনপ্রতিনিধির নাম উল্লেখ করতে হলে এফআইআরে ‘মাননীয়’, ‘সম্মানীয়’ কিংবা ‘অনারেবল’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা প্রশাসনিক প্রোটোকলের অংশ। ফলে সেই নিয়ম মানা হয়নি কেন, তা ব্যাখ্যা করতেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিবকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।