চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জাতীয় রাজনীতিতে। বুধবার সকালে বারামতীতে একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যমে অজিত পাওয়ারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, “তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই জননেতা। মহারাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের সেবায় তিনি সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।” তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় গভীর স্তব্ধতা প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই ক্ষতি অপূরণীয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে শোকাহত।” বারামতীর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত বাকি যাত্রীদের প্রতিও সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শরদ পাওয়ার ও তাঁর পরিবারের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছেন তিনি।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লিয়ারজেট ৪৫ মডেলের বিমানটি মুম্বই থেকে বারামতীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। অবতরণের কিছু সময় আগে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিমানটি ভেঙে পড়ে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকট শব্দে বিমানটি আছড়ে পড়ার পর চারিদিকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়রা চাইলেও প্রাথমিক অবস্থায় উদ্ধারকাজে হাত লাগাতে পারেননি।
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তদন্ত প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে জাতীয় স্তরে।