চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নতুন বছরের শুরুতেই সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং গাড়ি চালকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেড (ATGL)। রান্নার গ্যাস (পিএনজি) এবং সিএনজি-র দামে বড়সড় কাটছাঁট করল এই সংস্থা। আদানি গ্রুপ এবং ফরাসি সংস্থা টোটাল এনার্জি-র এই যৌথ উদ্যোগ জানিয়েছে, বিভিন্ন বাজারে সিএনজি এবং পাইপবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (domestic PNG) দাম কেজিতে বা ঘনমিটারে সর্বোচ্চ ৪ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক পর্ষদের (PNGRB) সাম্প্রতিক ট্যারিফ সংস্কারের জেরেই এই দাম কমানো সম্ভব হয়েছে। পর্ষদ গ্যাসের পরিবহন খরচ আগের তুলনায় অনেক সহজ ও সস্তা করে দিয়েছে, যার সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের কাছে। আদানি টোটাল গ্যাস লিমিটেড জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিবহন জোনের ওপর ভিত্তি করে এই দাম কমানোর হার আলাদা আলাদা হবে।
গুজরাট এবং সংলগ্ন এলাকায় সিএনজি-র দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১.৯০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে, রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে সিএনজি-র দাম কমেছে ১.৪০ টাকা থেকে ২.৫৫ টাকা পর্যন্ত। এই অঞ্চলগুলোতে রান্নার গ্যাসের (PNG) দামও ৪ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মধ্য এবং পূর্ব ভারতে সিএনজি-র দাম সবথেকে বেশি কমেছে— কেজিতে ১.৮১ টাকা থেকে ৪.০৫ টাকা পর্যন্ত। নতুন এই নিয়ম ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। আদানি ছাড়াও গেইল গ্যাস লিমিটেড (GAIL Gas), ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড (IGL) এবং থিঙ্ক গ্যাস-ও তাদের পরিষেবার দাম কমানোর কথা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস দিল্লি ও এনসিআর এলাকায় রান্নার গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৭০ পয়সা কমিয়েছে। আদানি টোটাল গ্যাসের সিইও সুরেশ পি মঙ্গলানি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রাকৃতিক গ্যাস আরও সাশ্রয়ী হবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার আরও বাড়বে।
বর্তমানে ভারতের মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ৬ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পিএনজিআরবি-র এই সংস্কার এবং তার জেরে সংস্থাগুলোর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ভারতের ভবিষ্যৎ জ্বালানি সুরক্ষা এবং দূষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।