চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ঘুষ ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন আদালতে বড় স্বস্তি পেলেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধমূলক জালিয়াতি এবং ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দায়ের মামলাও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। তবে এই মামলা প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তির বিনিময়ে আদানিদের আমেরিকায় বিপুল বিনিয়োগের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
সূত্রের খবর, গৌতম আদানি এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানি আমেরিকায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। এই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির পরই মামলাগুলি খারিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, আদানির মালিকানাধীন সংস্থা ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ (এজিএল) ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বরাত পেতে সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষের অঙ্ক ছিল ২৬.৫ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০২৯ কোটি টাকা। অভিযোগ আরও ছিল, আদানিরা আমেরিকার বাজার থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার তুলে অনিয়মিতভাবে তা ব্যবহার করেন এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে দুর্নীতির তথ্য গোপন রাখেন।
এই মামলায় তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কিন ন্যায়বিচার দফতর এবং মার্কিন বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) যথাক্রমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে অভিযোগপত্র পেশ করেছিল। সেই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই আদালতে মামলা চলছিল। এদিকে, আদানিদের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ ছিল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইয়ের একটি সংস্থার মাধ্যমে ১৯১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এলপিজি কেনা হয়। ওই গ্যাস ওমান বা ইরাক থেকে এসেছে বলে দাবি করা হলেও পরে তদন্তে জানা যায়, তা ইরান থেকেই আমদানি করা হয়েছিল। সেই মামলা নিষ্পত্তির জন্য আদানিদের ২৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২৬৪৭ কোটি টাকা। এসইসি জানিয়েছে, আদানিদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। যদিও আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনও বাকি রয়েছে।
অন্যদিকে, আদানিদের এই স্বস্তিকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে বিতর্ক চরমে উঠেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি অভিযোগ করেছেন, এটা কোনও বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং আদানিদের বাঁচাতে আপস। তাঁর দাবি, আমেরিকায় আদানিদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা আসলে মোদি সরকারের ‘আপসের রাজনীতি’-র প্রতিফলন। তবে আদানি শিবিরের তরফে এই মামলার নিষ্পত্তিকে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেও আমেরিকার বাজারে আদানি গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।