নিজস্ব গ্রাফিক্স
AK Bangla Desk: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের টিকিটে জিতে পরবর্তীতে দল ত্যাগ করা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে কেন দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করা হচ্ছে না এবং তাঁদের সদস্যপদ কেন খারিজ করা হচ্ছে না, এই মর্মে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অভিযুক্ত ২০ জন সাংসদের তালিকায় রয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ও সায়নী ঘোষের মতো একাধিক হেভিওয়েট নাম। চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে অখ্যাত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন ওই ২০ জন সাংসদ। কিন্তু সেই দলবদলকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে সংসদে এই সাংসদদের বসার আসন সামনের সারিতে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মূল তৃণমূল সাংসদদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পিছনের সারিতে। তাতেই তীব্র আপত্তি তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, “বাইরে এই ২০ জন দাবি করছেন তাঁরা নতুন দলে গেছেন, অথচ সংসদে ভাষণ দেওয়ার সময় তাঁদের নামের পাশে এখনও অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) লেখা থাকছে। এই দ্বিমুখী ব্যবস্থা আইনসম্মত হতে পারে না।”
তৃণমূলের দাবি, ১৯৮৫ সালের লোকসভা সদস্য বিধির ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এই দলত্যাগী ২০ জন সাংসদের পদ অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। এই নিয়ে গত ১৯ জুন স্পিকারের কাছে একটি লিখিত পিটিশন জমা দিয়েছিলেন অভিষেক। বারবার স্পিকারের সঙ্গে দেখা করলেও এ বিষয়ে কোনও শুনানি বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। উল্টে আদি তৃণমূল সাংসদদের আসন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে কালীঘাট।
তৃণমূলের আসন পুনর্বহাল এবং বিদ্রোহীদের অবিলম্বে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আনার দাবিতে শেষপর্যন্ত শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হলেন অভিষেক। চলতি সপ্তাহে এই রিট পিটিশনের শুনানি শুরু হলে লোকসভার অভ্যন্তরের দলবদল রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর দেশের রাজনৈতিক মহলের।