চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্জনতার আকরভূমি হল কালিম্পং জেলার এক ছোট্ট মায়াবী গ্রাম ভালুখোপ। কালিম্পং টাউনের অদূরে এই পাহাড়ি গ্রামে এলে একসঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় ও খরস্রোতা তিস্তা নদীর ভিউ পাওয়া যায়। কনকনে ঠান্ডা, আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার। স্পষ্ট দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়, পাহাড়ের কোল ছুঁয়ে কুলকুল শব্দ করে বয়ে চলেছে তিস্তা নদী। এমন দৃশ্য দেখা ভাগ্যের ব্যাপার। তবে ভাগ্য সঙ্গ দিতে পারে যদি ছুটি কাটাতে আপনার গন্তব্য হয় কালিম্পংয়ের ভালুখোপে (Valukhop)।
কালিম্পং টাউনের ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুদণ্ড শান্তিতে কাটানোর আদর্শ ঠিকানা হল ভালুখোপ। কালিম্পং থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভালুখোপ। সামনে দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ ও ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা নদী। উল্টো দিকে রয়েছে মেল্লি। ঠিক তার ওপরে রয়েছে শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড়। কালিম্পংয়ের অদূরে ভালুখোপে এলে এমনই মায়াবী সৌন্দর্যর দেখা মিলবে। এই পাহাড়ি গ্রামের যেদিকে দুচোখ মেলে তাকাবেন সেদিকেই নজরে পড়বে সবুজের সমারোহ। এখানে পর্যটকদের আনাগোনা নেই। হাতেগোনা কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে থাকার জন্য (Valukhop)।
আরও পড়ুনঃ X Handle: ভুয়ো খবরের ছড়াছড়ি রুখতে এলন মাস্কের নতুন অস্ত্র! X অ্যাকাউন্টে আসছে নতুন ফিচার
এখান থেকে ভোরবেলায় কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় দেখা জীবনের এক সেরা অভিজ্ঞতা। তেমনই উপভোগ করতে পারেন কালিম্পংয়ের মায়াবী রাত। শহরের কোলাহল থেকে দূরে নির্মল বাতাস, শান্ত নির্জন পাহাড়ি গ্রাম, মেঘে ঢাকা পাহাড়, গ্রামের পাশে বিস্তৃত চা বাগান, পাখির কলরব, প্রকৃতির সান্নিধ্য-সব মিলিয়ে ভালুখোপ এমন এক জায়গা যেখানে কয়েক মুহূর্ত কাটালেই মন ভরে যায়। প্রকৃতি আর গ্রামের বাসিন্দাদের সহজ সরল সাদামাঠা জীবনযাপনের অপরূপ মেলবন্ধন জায়গাটিকে বিশেষ করে তুলেছে। ভালুখোপের জঙ্গল হল পাখিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে নানান প্রজাতির পাখিদের কিচিরমিচির শুরু হয়ে যায়। রয়েছে আলপাইন ফরেস্ট। পায়ে হেঁটে ঘোরা যায়। জঙ্গলের ভেতরে রয়েছে এক সুন্দর জলপ্রপাত।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
ভালুখোপ থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে সাত মাইল, দুরপিন মনেস্ট্রি, চিত্রে জলপ্রপাত, ডেলো পার্ক, রামধুরা, দাঁড়াগাঁও, বিদ্যাং, সিলেরি গাঁও। কালিম্পং টাউন থেকে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্ব ভালুখোপ। কালিম্পং থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসা যায় এসব জায়গা (Valukhop)।
কীভাবে যাবেন
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ভালুখোপের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। গাড়িতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। শিলিগুড়ি থেকে ভালুখোপের দূরত্ব ৮৫ কিলোমিটার। গাড়িতে ভালুখোপ পৌঁছতে সময় লাগে ৩/৩.৫ ঘণ্টা। নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পং পৌঁছে যাওয়া যায় ১০ মিনিটের দূরত্বে ভালুখোপ। থাকার জন্য হোম স্টে রয়েছে। বার্ড ওয়াচিং, ট্রেকিং ও ফটোগ্রাফির জন্য বিখ্যাত ভালুখোপ।