ad
ad

Breaking News

Tulin

সুবর্ণরেখা নদীর তীরে শাল-পিয়ালের জঙ্গলে ঘেরা ছবির মতো সুন্দর গ্রাম তুলিন

সুবর্ণরেখা নদীর তীরে বসে উপভোগ করতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। কোথা দিয়ে যে সময় কেটে যাবে।

tulin-village-purulia-hidden-gem

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ঝরনা, জঙ্গল, পাহাড়, পলাশবন আর স্থানীয় বাসিন্দাদের সরল সাদামাঠা জীবনযাপন, এনিয়েই জঙ্গলমহলের জেলা পুরুলিয়া। আদি অকৃত্রিম অকৃপণ নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেই মানুষ আসে পুরুলিয়ায়। ছোট্ট ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে হারিয়ে যাওয়ার সেরা ঠিকানা হল পুরুলিয়া। এই জেলার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কত গোপন আস্তানা। যেমন, পুরুলিয়ার ঝালদা অঞ্চলে রয়েছে এক “হিডেন জেম” তুলিন। ছোট ছোট টিলা, ঘন সবুজ জঙ্গল আর নদী নিয়ে তৈরি এই এলাকা।

ঝালদায় এসে লোকজন মূলত জজহাতু, লাকরাকুঁদি বাঁধ, পাদরি বাঁধ, চাতমঘুঁটু, নরোহারা ড্যামের মতো জায়গাগুলো ঘুরে দেখেন। তবে এই ঝালদায় রয়েছে অঞ্চলের সবচেয়ে সুন্দর গ্রাম তুলিন। ঝালদা সফর শুরু হয় এই গ্রাম দিয়ে। পুরুলিয়ার শেষ গ্রাম তুলিন। স্টেশন লাগোয়া এই গ্রাম হল তুলিন। বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী এই ছোট্ট গ্রাম ছোট ছোট টিলা এবং শাল পিয়ালের জঙ্গল ঘেরা। ছবির মতো সুন্দর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সুবর্ণরেখা নদী। সুবর্ণরেখা নদীর ওপর রয়েছে পুরোনো রেল সেতু। নীরবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে গন্তব্য হোক তুলিন। কারণ এখানে একেবারে পর্যটকদের ভিড়ভাট্টা নেই। তাই তুলিন অনন্য। বানসা পাহাড়, সাপ পাহাড়, কেরওয়ারির জঙ্গল ও মাঘা নদের পাশে পলাশ বন, এসব নিয়ে তুলিন গ্রাম।

সুবর্ণরেখা নদীর তীরে বসে উপভোগ করতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। কোথা দিয়ে যে সময় কেটে যাবে। গোটা তুলিন গ্রাম সবুজে ঢাকা। বসন্তে সেজে ওঠে পলাশের রঙে। কেরওয়ারির জঙ্গল থেকে শোনা যায় ময়ূরের ডাক। তুলিনে আসলে চোখে পড়বে স্থানীয় আদিবাসীদের সরল সাদামাঠা জীবনযাপন। তুলিন গ্রাম থেকে ঘুরে আসতে পারেন ৪২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অযোধ্যা পাহাড়। প্রকৃতিপ্রেমী, পাখিপ্রেমী ও ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্য হল অযোধ্যা পাহাড়। আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে শাল, পিয়াল, মহুয়া, শিরীষ, সেগুন গাছ ঘেরা জঙ্গল আর গাছগাছালির ফাঁক দিয়ে পাহাড়। সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা এক টুকরো ছবি-এসব নিয়ে অযোধ্যা পাহাড়। এছাড়াও তুলিন থেকে ঘুরে আসা যায় ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুরুগুমা জলাধার। অখণ্ড নির্জনতার মধ্যে নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে কাটানোর আদর্শ ঠিকানা হল প্রান্তিক অঞ্চল মুরুগুমা।

কীভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন? 

হাওড়া থেকে রাঁচি শতাব্দী এক্সপ্রেস বা রাঁচি হাতিয়া এক্সপ্রেসে চেপে মুরি জংশনে নামুন। ঝাড়খণ্ডর মুরি জংশন থেকে তুলিন গ্রাম মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে। এছাড়াও তুলিনে রেল স্টেশন রয়েছে। সড়ক পথে বর্ধমান, আসানসোল, কোটশিলা হয়ে ঝালদা এবং তুলিনে পৌঁছোতে পারেন। থাকার জন্য একটি বাংলো ও দু’একটা কটেজ রয়েছে।