চিত্র- সংগৃহীত
সৃজিতা মল্লিক: দার্জিলিং মানেই ভিড় আর পর্যটকের কোলাহল। এই ধারণা থেকে বেরিয়ে যদি একটু শান্ত, নির্জন প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হতে পারে রঙ্গারুন। দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রামটি এখন ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অফবিট পর্যটন মানচিত্রে। টাইগার হিলের পাদদেশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগানই রঙ্গারুনের প্রধান আকর্ষণ। প্রায় ৫০ হেক্টর জমি জুড়ে সবুজ গালিচার মতো বিছিয়ে থাকা এই বাগান চোখ জুড়িয়ে দেয়। পাহাড়ি ঢাল, ছোট ছোট কাঠের বাড়ি, ফুলে ভরা উঠোন—সব মিলিয়ে একেবারে ছবির মতো পরিবেশ। একসময় ইংরেজদের আমলে বিশেষ জনপ্রিয় ছিল এই অঞ্চল। দার্জিলিং চায়ের মধ্যে রঙ্গারুনের চায়ের আলাদা কদর ছিল বিদেশেও। আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে এই চা-বাগান।

এনজেপি হয়ে রঙ্গারুন পৌঁছতে সময় লাগবে প্রায় তিন ঘণ্টা মতো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতেই ৭০-৭৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে যেতে পারেন সহজেই। যে হেতু এই গ্রাম অভয়ারণ্যের ভিতর অবস্থিত, কপাল ভালো থাকলে নানা ধরনের বিরল প্রজাতির পাখি, বন্যপ্রাণীর দেখা মিলতে পারে। সেনচেল অভয়ারণ্যে কিন্তু ভালুক, চিতার আনাগোনা রয়েছে। খুব ভোরে কিংবা বিকেল-সন্ধের দিকে একা চা-বাগানে প্রবেশ না করাই ভালো। রঙ্গারুনের আর এক বড় আকর্ষণ এখানকার নির্জনতা। দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে অনেকেই এখন এই গ্রামকে বেছে নিচ্ছেন। এখানে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন দেখা যায় মহিমান্বিত কাঞ্চনজঙ্ঘা, তেমনই নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে রংডং নদী। কুয়াশা সরে গেলে সকালের দৃশ্য যেন আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে হাঁটা, নরম রোদে বসে থাকা কিংবা পাহাড়ি খাবারের স্বাদ—সব মিলিয়ে দু’দিনের নির্ভেজাল ছুটির জন্য আদর্শ জায়গা রঙ্গারুন। চাইলে এখান থেকে ট্রেক করেও ঘুরে আসতে পারেন আশপাশের অঞ্চল, যেমন রংডং নদীর পাড় ধরে ছোট ট্রেকিং রুট রয়েছে। বছরের যে কোনও সময়ই রঙ্গারুন ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। গ্রীষ্মে মনোরম আবহাওয়া, শীতে পরিষ্কার আকাশ আর বর্ষায় সতেজ সবুজে ভরে ওঠে চারপাশ। তবে থাকার ব্যবস্থা সীমিত—মাত্র কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে, তাই আগে থেকে বুকিং করে যাওয়াই ভালো।

কীভাবে যাবেন?
ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পৌঁছে সেখান থেকে গাড়িতে জোড়বাংলো হয়ে রঙ্গারুন যাওয়া যায়। শিলিগুড়ি থেকেও শেয়ার গাড়িতে জোড়বাংলো পৌঁছে সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে বাকি পথ অতিক্রম করা যায়। সিঞ্চল জঙ্গলের ভিতর দিয়ে পথ পেরিয়েই মিলবে এই সবুজের স্বর্গ। কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে রঙ্গারুন হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।