চিত্র - সংগৃহীত
Bangla Jago Desk : ক্যালেন্ডার বলছে চৈত্র মাস কিন্তু আবহাওয়া বলছে এটা হয়তো জ্যৈষ্ঠ মাস। রোদের প্রখরতায় ঝলসে যাচ্ছে সব কিছু। আর এই গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় ভ্রমণে যাওয়া। কোথায় যাবেন? এই গরমে কাছাকাছি কোন পাহাড়ের দেশে ঘুরতে যাওয়া মানেই আমাদের মনে আসে দার্জিলিং কিংবা কালিম্পঙের নাম। তবে পর্যটকেরা আজকাল আর ঘিঞ্জি পরিবেশে যেতে পছন্দ করেন না, তারা চায় কোন নির্জন পাহাড়ি ডেস্টিনেশনে গিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে একাকী সময় কাটাতে। চলুন আজ যাওয়া যাক সেই রকমই এক অফবিট ডেস্টিনেশন, যেখানে প্রকৃতি ধরা দেবে এক অন্য রূপে।
রাচেলা পাস হল কালিম্পঙের এক লুকোনো রত্ন। যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এই স্থান ট্রেকার এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের কাছে বড়ই প্রিয়। এই পাস থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার শোভা উপভোগ করা যায়। দেখে যেন মনে হয় এই বোধ হয় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আপনি হাতের মুঠোয় ধরে ফেলবেন। রাচেলা পাসের সবথেকে কাছের জায়গা হল লাভা। লাভা থেকে রাচেলা পাসের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের মতো। আপনি চাইলে লাভা থেকে গাড়ি ভাড়া করে আবার চাইলে ট্রেক করেও পৌঁছে যেতে পারেন এই পাসে। রাস্তাটি বড় এবড়ো খেবড়ো। এ যেন এক আলাদা অভিজ্ঞতা এনে দেবে আপনাকে।
আরও পড়ুন : ধার কম, বেশি ভার- নাইটদের বারবার হার!
চারপাশে ঘন বন মাঝখানে চলে গিয়েছে পাহাড়ি আঁকা বাঁকা এবড়ো খেবড়ো রাস্তা। জীবনে যারা অ্যান্ডভেঞ্চার পছন্দ করেন তাদের কাছে এই জায়গা বরাবর সেরা জায়গা গুলির মধ্যে একটি। ট্রেক করে এখানে যেতে গেলে সময় লেগে যাবে ২ থেকে ৩ দিন। মার্চ মাস সবে শেষ হয়ে পড়েছে এপ্রিল মাস । আর এই মাস রাচেলা পাস যাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ এই সময় পাহাড়ি কোন দুর্যোগের আশঙ্কা থাকেনা, প্রাকৃতিক পরিবেশও থাকে মনোরম। এই অঞ্চল জীব বৈচিত্রে সমৃদ্ধ। পাখিদের মিষ্টি মধুর কলতান ভেসে আসবে আপনার কানে, শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য নয়, দেখা যায় হিমালয়ের অন্যান্য রেঞ্জও। এখান থেকে আপনি ঘুরে নিতে পারেন লাভা মঠ, নেওরা ভ্যালি সহ আরও কত কি। তাহলে আর দেরি না করে এই এপ্রিলেই ছুটি দেখে ঘুরে আসুন এবং ট্রেক করে আসুন এই রাচেলা পাস থেকে।