চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভ্রমণপিয়াসী বাঙালির কাছে উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে দার্জিলিং পাহাড় সব সময় বেড়ানোর প্রিয় গন্তব্য। তবে অনেকে বেড়াতে যাওয়ার জন্য অফবিট পর্যটন কেন্দ্রর খোঁজ করেন। আজকের প্রতিবেদনে খোঁজ দেব সে রকমই এক জোড়া নিরিবিলি পাহাড়ি গ্রাম খারকাগাঁও ও ঝেপি। পাহাড়, মেঘ আর সবুজের সমারোহ ঘেরা চেনা দার্জিলিংয়ের একেবারে কাছেই লুকিয়ে রয়েছে এক শান্ত, নির্জন পাহাড়ি গ্রাম খারকাগাঁও। পাহাড়ঘেরা এই ছোট্ট গ্রামের থেকে হাত বাড়ালে দেখা মেলে সুন্দরী কাঞ্চনজঙ্ঘার। এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য মন কেড়ে নেবে। গরম হোক কিংবা বর্ষা, যে কোনো মরসুমে খারকাগাঁও আপনাকে কখনো হতাশ করবে না। এখান থেকে হাত বাড়ালেই মেঘ ছুঁয়ে যায়। চারিদিকে পাহাড় ও সবুজের সমারোহ। এক কথায় প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়েছে ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম খারকাগাঁওকে।
প্রকৃতির নিজের হাতে সাজানো অপূর্ব ক্যানভাস খারকাগাঁওয়ের মূল আকর্ষণ অপাপবিদ্ধ প্রকৃতি নিজেই। পাহাড়ি পথে হাঁটা, মেঘের আনাগোনা দেখা, সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের রং বদলানো দৃশ্য উপভোগ করা, সব মিলিয়ে খারকাগাঁও মানেই মানসিক প্রশান্তি। আকাশ মেঘমুক্ত পরিস্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘাও দেখতে পারবেন। এখানে এলে সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির কলতানে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাহাড় আর মেঘের খেলা দেখা যায়। দার্জিলিংয়ের কাছে অবস্থিত এই গ্রামটি কালিম্পং থেকে দূরত্ব মাত্র ৯ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে খারকাগাঁওয়ের দূরত্ব প্রায় ৮৩ কিলোমিটার। খারকাগাঁও যেতে হল নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি পৌঁছানো যায়। পাহাড়ি পথ ধরে যাওয়ার পুরো যাত্রাটাই চোখ জুড়ানো।
যাঁরা দার্জিলিং ঘুরতে এসে একটু শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ চান, তাঁদের জন্য খারকাগাঁওয়ের মতোই ঝেপি হল একেবারে আদর্শ ঠিকানা। দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের মতো ভিড়ে ঠাসা নয়। হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা অচেনা অজানা স্বর্গ হল ঝেপি।উত্তরবঙ্গের ঝেপি কোনও ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্র নয়। এখানে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারের বসবাস। তাই ভিড় নেই, শব্দদূষণ নেই। এই জায়গার অপরূপ সৌন্দর্য আপনার মন কাড়বেই। দিন কয়েকের ছুটিতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে দুদণ্ড শান্তিতে কাটাতে চাইলে আপনার গন্তব্য হতে পারে ঝেপি। ঝেপি এমন একটি জায়গা, যেখানে গেলে আপনার আর অন্য কোথাও যেতে ইচ্ছে করবে না। নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে পাখিদের কলরব ও পাহাড়ি ফুলের শোভা উপভোগ করতে পারবেন। খারকাগাঁও ও ঝেপিতে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি সুন্দর হোমস্টে রয়েছে। আগে থেকে বুকিং করে সেখানে যেতে হবে।