চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলার ধর্ম, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যর অনুপম নিদর্শন হল আগরপাড়া-খড়দহর গঙ্গা তীরের গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দারা আদর করে গিরিবালা ঠাকুরবাড়িকে ‘ছোটো দক্ষিণেশ্বর’ বলে ডাকেন। গিরিবালাদেবী ছিলেন রানি রাসমণির নাতি গোপালকৃষ্ণ দাসের স্ত্রী। স্বামী ও ৩ সন্তানের অকালমৃত্যুতে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন গিরিবালাদেবী। নিজেকে ধর্মীয় কাজ ও সামাজিক কাজে নিয়োজিত করেন। তাঁর উদ্যোগেই গড়ে ওঠে গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি। ১৯১১ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সে সময় মন্দির গড়তে ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। পঞ্চরত্ন শৈলীতে গড়ে ওঠে গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি। নির্মাণ ও নকশার ডিজাইন করেন বিশিষ্ট স্থপতি গগনচন্দ্র বিশ্বাস। মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে অসংখ্য কারুকাজ, রঙিন কাচের ব্যবহার, উঁচু বেদী ও প্রশস্ত প্রাঙ্গণ। গঙ্গা তীরের পাশে অবস্থিত মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জিউ। সামনে রয়েছে বড়ো নাটমন্দির। বাংলার ধর্ম সংস্কৃতির দিক থেকে পানিহাটি অঞ্চলের গুরুত্ব অপরীক্ষিত। শ্রীশ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু ও শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজড়িত পানিহাটি অঞ্চল বৈষ্ণব তীর্থ বলে পরিচিত। সেখানে শৈব ও বৈষ্ণব মতের সহাবস্থান দেখা যায় গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে। মন্দিরে ঢোকার মুখে ২ দিকে রয়েছে ৬টি ছোট শিবমন্দির। বছরভর গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে নানান রকম উৎসব পালন করা হয়। সারাদিনে কয়েকবার অন্নভোগ হয়। মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে পুজোর ঘর, রান্নাঘর ও ভক্তদের বসার জায়গা। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিরিবালা ঠাকুরবাড়ি হল সামাজিক মিলনক্ষেত্র যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
কীভাবে যাবেন গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে
ট্রেনে গেলে শিয়ালদহ বারাকপুর রানাঘাট শাখার আগরপাড়া বা খড়দহ স্টেশনে নেমে অটো, টোটো বা রিকশায় চেপে যাওয়া যায় গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে। এছাড়াও মেট্রোরেলে চেপে নোয়াপাড়া বা বরানগরে নেমে বাস বা অটোরিকশায় চেপে খড়দহ বা আগরপাড়া হয়ে মন্দিরে আসা যায়। বিটি রোড ধরে পানিহাটিতে বাসে করে এসে টোটো বা রিকশায় চেপে আসা যায় গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে। এছাড়াও হাওড়া-ব্যান্ডেল লাইনে ট্রেনে চেপে এসে পানিহাটি ঘাটে নামুন। লঞ্চে নদী পেরিয়ে পানিহাটিতে এসে টোটো বা রিকশায় চেপে আসা যায় গিরিবালা ঠাকুরবাড়িতে।