চিত্র - সংগৃহীত
Bangla Jago Desk : মার্চের শুরু থেকেই বেশ গরম পড়েছে বঙ্গজুড়ে। এই গরমে ভ্রমনপিপাসুরা গুগুল খুলে সার্চ করতে থাকে নিত্যনতুন ডেস্টিনেশন। কাছাকাছি পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে যেতে চান? যেখানে গেলে বৌদ্ধদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটবে আপনার। এই রকম জায়গা রয়েছে কালিম্পঙে, কালিম্পঙের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত দুরপিন দারা। এই দুরপিন দারা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪৫০১ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এখানে রয়েছে এক বৌদ্ধ মনেস্ট্রি যা পরিচিত জ্যাং ধোক পালরি ফোদাং নামে।
এই তিব্বতি বৌদ্ধ মঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ১৯৫৭ সালে দুদজোম রিনপোচে। এর পর এই বৌদ্ধ মনেস্ট্রিতে ১৯৭৬ সালে এসেছিলেন দালাই লামা। এই মনেস্ট্রি পুরোটাই কারুকার্য করা নিখুঁত কারুকার্যে। এই মঠে আসলেই আপনি বৌদ্ধদের আদব কায়দার সঙ্গে অবগত হতে পারবেন।
আরও পড়ুন : ঠান্ডাই বিনা হোলি ভাবায় যায় না, কিন্তু কতটা স্বাস্থ্যকর এই পানীয়?
এই বৌদ্ধ মন্দির ঢোকার আগে পড়বে একটি বিশাল আকার গেট। এই গেট দিয়ে গিয়ে পড়বে সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে এক পা দু পা করে উপরের দিকে উঠলে পড়বে মঠের মূল কাঠামো। আর এই মঠের মূল কাঠামোর ভিতরে রয়েছে বিশাল বড় বুদ্ধের এক মূর্তি। এই মঠের বুদ্ধের মন্দিরে রয়েছে বুদ্ধের নানা ধরনের রূপ, যেমন রয়েছে বুদ্ধের রাগান্বিত রূপ আবার কোনওটা শান্ত স্নিগ্ধ রূপ। মন্দিরের ভিতরে রয়েছে একাধিক ছোট ছোট আসন পাতা। প্রত্যেক আসনের সামনে রয়েছে ছোট ছোট কাঁচের টেবিল। যারা বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আছেন তারা এই মন্দিরে এসে এখানে বসে প্রার্থনা করেন। আপনার মন যদি থাকে অশান্ত তাহলে এই মঠে গেলে আপনার মন হয়ে উঠবে শান্ত।
এই বৌদ্ধ মন্দিরে রয়েছে একটি বিশাল বড় প্রার্থনা কক্ষ। কিছু কিছু কক্ষ আছে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের জন্য। বৌদ্ধ মঠের একদম শুরুতেই রয়েছে অসংখ্য প্রার্থনা চক্র। যে চক্র ঘোরাতে ঘোরাতে আপনি নিজের মনের ইচ্ছে বুদ্ধকে সরাসরি জানাতে পারবেন। এখানে রয়েছে ১০৮ টি তিব্বতি ধর্ম গ্রন্থ। কালিম্পং আসলে অবশ্যই ঘুরে নিতে পারেন এই বৌদ্ধ মনেস্ট্রিও। ভাবছেন কিভাবে যাবেন? ট্রেনে করে এনজেপি হয়ে সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে কালিম্পং শহর পৌঁছে যান। কালিম্পং শহর থেকে ২ কিলোমিটার দূরেই এই বৌদ্ধ মনেস্ট্রি।