চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদিয়া জেলায় অনেক সংখ্যক জোড় বাংলা মন্দির রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নদিয়া জেলার রানাঘাট মহকুমার অধীনে বীরনগরের জোড় বাংলা মন্দির। শিয়ালদহ থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বীরনগর। আগের নাম ছিল উলা। বীরনগর টাউনে একাধিক জোড় বাংলা মন্দির রয়েছে। তবে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য হল রাধাকৃষ্ণর নামে উৎসর্গিত জোড় বাংলা মন্দির। নিত্য পুজো করা হয় মন্দিরে।
জোড় বাংলা অর্থাৎ ২টো দো চালা মন্দির পাশাপাশি এক দেওয়ালে গেঁথে তৈরি হয়েছে জোড় বাংলা মন্দির। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে কষ্টিপাথরের শ্রীকৃষ্ণর মূর্তি আর অষ্টধাতুর শ্রীরাধিকার অপূর্ব সুন্দর মূর্তি। উঁচু বেদীর ওপর স্থাপিত এই মন্দির। ১৬১৬ শকাব্দে বা ১৬৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রাচীন মন্দির তৈরি করেন স্থানীয় জমিদার রামেশ্বর মিত্র। ১৭০৪ সালে তিনি মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের কাছ থেকে মুস্তাফি উপাধি পান। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খানের আমলে কর সংগ্রহকের কাজ করতেন রামেশ্বর মিত্র।
জোড় বাংলা মন্দিরের সামনের দেওয়ালে রয়েছে টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজ। নদিয়া জেলার বীরনগরের মুস্তাফিপাড়ার জোড় বাংলা মন্দির হল পশ্চিমমুখী। টেরাকোটার কারুকাজে কৃষ্ণলীলা, দেবদেবী, নৌকায় যাত্রা, সামাজিক জীবনের খণ্ড ছবি দেখা যায়। এক সময় হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত বীরনগরের শাসন করতেন ২ জন জমিদার। ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে নদীর গতিপথ বদলাতে শুরু করে। বীরনগর থেকে দূরে সরে যায় হুগলি নদী। বীরনগরের একটি অংশর জমিদার ছিলেন মুখোপাধ্যায়রা। বাকি অংশর জমিদার ছিলেন মুস্তাফিরা। মন্দিরের ভেতরে ঢোকার পর ডানদিকে রয়েছে কাঠের চণ্ডীমণ্ডপ। সেখানে আজও দুর্গাপুজো হয়। বীরনগর হল এক কথায় মন্দির নগরী। এখানে রয়েছে প্রাচীন দ্বাদশ শিবের মন্দির। শিয়ালদহ কৃষ্ণনগর লোকালে চেপে বীরনগর স্টেশনে নেমে টোটো করে চলে আসা যায় মুস্তাফি পাড়ার জোড় বাংলা মন্দিরে।