চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: লালমাটির দেশ বীরভূম। শাক্তভূমি হিসাবে পরিচিত বীরভূমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরও নানান প্রাচীন শৈবক্ষেত্র ও বৈষ্ণব মন্দির। বীরভূমে রয়েছে টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজ সমৃদ্ধ নানান প্রাচীন দেবালয়। বীরভূমের ইলামবাজার মহকুমায় ঘুরিশায় রয়েছে প্রাচীন গোপাল ও লক্ষ্মী জনার্দন মন্দির। প্রাচীন এই নবরত্ন মন্দির টেরাকোটার অপূর্ব কারুকাজের জন্য বিখ্যাত।
১৭৩৯ খ্রিস্টাব্দে ক্ষেত্রনাথ দত্ত এই পূর্বমুখী মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের প্রবেশপথে, দেওয়ালে ও খিলানে অপূর্ব কারুকাজ দেখা যায়। গণেশ জননী, ত্রিপুরাসুন্দরী দেবী, চৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ মহাপ্রভু ও মাকালীর মূর্তি খোদাই করা হয়েছে পোড়ামাটিতে। এছাড়াও দশমহাবিদ্যা, বিষ্ণুর দশাবতার, রাম-সীতা ও রাধাকৃষ্ণর মূর্তি দেখা যায় টেরাকোটায়। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে গোপালের বিগ্রহ ও লক্ষ্মী জনার্দন শালগ্রাম শীলা। বোলপুর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ইলামবাজার মহকুমাতেই রয়েছে ইটের তৈরি টেরাকোটার কারুকাজ করা হাটখোলা মহাপ্রভু মন্দির। আটকোণ বিশিষ্ট রেখদেউল আঙ্গিকের এই মন্দির সংরক্ষণ করা হয়েছে। ১৮ শতকে নির্মিত এই মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে টেরাকোটার কারুকাজ। মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রতিষ্ঠিত গৌড় নিতাইয়ের বিগ্রহ রয়েছে।
বোলপুরে পৌঁছে অটোরিকশা বা টোটোয় চেপে জামবুনি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে যেতে হবে। বাসে করে আরামবাগে পৌঁছে টোটোয় চেপে বা মিনিট দশেক হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় লক্ষ্মী জনার্দন মন্দিরে। অথবা বোলপুর স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসা যায় এই মন্দিরে। আবার জামবুনি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে ইলামবাজার বাসস্ট্যান্ডে নেমে টোটোয় চেপে বা মিনিট দশেক হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় হাটখোলা মহাপ্রভু মন্দিরে।