চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: এক সময় মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত কাঁকড়াঝোড়, আমলাশোল, ঢাঙিকুসুমের মতো জঙ্গলমহলের গ্রামে বেড়াতে যাওয়ার কথা কেউ ভাবতেই পারত না। আজ ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। রাজ্য সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এসব জায়গা আজ হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। নাগরিক জীবনযাপনের কোলাহল গায়ে না মেখেও সমস্ত রকমের সুযোগ সুবিধা মিলবে এসব জায়গায়। জঙ্গলমহলের এসব জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রর মতোই বেলপাহাড়ির বালিচুয়া গ্রামও এমনই এক অফবিট পর্যটন কেন্দ্র। যেখানে আধুনিক সমস্ত সুযোগ সুবিধা মিলবে। আবার জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা বালিচুয়া গ্রাম হল প্রকৃতির এক অপূর্ব খাজানা।

চারিদিকে ছোট ছোট টিলা, ২ পাশে চাষের ক্ষেত। মাঝে ঢালাই সড়ক। চারপাশে সবুজের সমারোহ। এসব নিয়েই মনোরম সৌন্দর্যের আকরখানি হল বালিচুয়া গ্রাম। পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের ছোট্ট গ্রাম হল বালিচুয়া। বালিচুয়ার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল চিটিপাহাড়। বালিচুয়া গ্রামের পর জঙ্গলের পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় চিটিপাহাড়ের নীচে। সবুজে ঢাকা পথ পেরিয়ে পাহাড়ের ওপর ওঠা যায়। চিটিপাহাড়ের ওপর উঠে বালিচুয়া গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখান থেকে বেলপাহাড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসম্ভব সুন্দর। যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। বালিচুয়া গ্রাম থেকে ঘুরে আসা যায় ঢাঙিকুসুম জলপ্রপাত, ঘাঘরা জলপ্রপাত, তারাফেনি জলাধার, চাতন পাহাড়, খেঁদারানি জলাধার, তালবেড়িয়া গ্রাম, সুতানের জঙ্গল প্রমুখ।

কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এবং কখন বেড়ানোর আদর্শ সময়
হাওড়া থেকে ঝাড়গ্রামে ট্রেনে চেপে এসে ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে বালিচুয়া গ্রামে আসতে পারেন। অথবা ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি বেলপাহাড়ির বাসে চেপেও আসা যায়। গাড়ি ভাড়া করে বালিচুয়া গ্রামে পৌঁছে যাওয়া যায়। থাকার জন্য কয়েকটি হোম স্টে আর রিসর্ট রয়েছে। বালিচুয়া গ্রামে যাওয়ার আদর্শ সময় হল শীত ও বসন্তকাল।